
গণপিটুনির ঘটনায় ধৃতদের আদালতে তোলা হল।
শেষ আপডেট: 12 July 2024 16:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে গণপিটুনির দুটি ঘটনা ঘটল বর্ধমানে। বৃহস্পতিবার রাতে চোর সন্দেহে চারজনকে বেধড়ক মারধর করে গ্রামবাসীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কোনওমতে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার সকালে বর্ধমান শহরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাঁ পাড়ায় ছেলেধরা সন্দেহে চলল মারধর। এই ঘটনায় তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। জেলা পুলিশ সুপার আমন দীপ জানান, "বারেবারে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সচেতন করা হচ্ছে। তবুও এরকম ঘটনা বন্ধ করা যাচ্ছে না। আমরা আরও বেশি করে প্রচারে জোর দেব।"
বৃহস্পতিবার রাতে পূর্ব বর্ধমানের দেওয়ানদিঘি থানার আলমপুরের গণধোলাইয়ের ঘটনায় পুলিশ ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের শুক্রবার বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। জেলা পুলিশ সুপার আমন দীপ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে চারজনকে চোর সন্দেহে গ্রামবাসীদের একাংশ ধরে মারধর শুরু করেপুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আক্রান্ত চারজনকে উদ্ধার করে। আক্রান্তদের বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলায়। আলমপুর এলাকায় প্লাস্টিকের চেয়ার টেবিল ফেরি করত তারা। এখানেই বাড়ি ভাড়া করে থাকত।
রাতে পুলিশ আক্রান্তদের বাঁচাতে গেলে উত্তেজিত জনতা পুলিশের উপরেও চড়াও হয়। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর করে। একজন পুলিশ কর্মী সামান্য জখম হন। স্থানীয়রা জানান, কয়েকজন লোক আলমপুর গ্রামে বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন। রাতে গ্রামেরই একজনের বাড়িতে তারা চুরি করতে ঢুকেছিল। বাড়ির লোকজন তাদের দেখে চিৎকার চেঁচামেচি করলে গ্রামের মানুষজন জড়ো হয়ে তাদের ধরে ফেলে। তবে পুলিশকে মারধর করা হয়নি বলেই তাঁদের দাবি। এই ঘটনার পর শুক্রবারও গ্রামে পুলিশ টহল দিচ্ছে। পুলিশের ধরপাকড়ের ভয়ে গোটা গ্রাম কার্যত শুনশান। দোকানপাট সবই প্রায় বন্ধ।
এদিকে আলমপুরের এই ঘটনার রেশ কাটার আগেই বর্ধমান শহরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাঁ পাড়ায় ছেলেধরা সন্দেহে শুরু হয় মারধর। শুক্রবার সকালে অপরিচিত পাঁচজনকে এলাকার একটি বাচ্চার সঙ্গে কথা বলতে দেখে সন্দেহ হয় বাসিন্দাদের। গ্রামের মানুষের দাবি, তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করতেই তারা পালানোর চেষ্টা করে। স্থানীয়রা তাড়া করে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের তেলমারুই পাড়া এলাকায় দু'জনকে ধরে ফেলে। বাকীরা পালিয়ে যায়। ওই দুজনকে বেঁধে রেখে ছেলেধরা সন্দেহে মারধর করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পেয়ে বর্ধমান থানার পুলিশ পৌঁছে এক নাবালিকা সহ দু'জনকে উদ্ধার করেছে। আক্রান্ত কানাই দেবের দাবি, তাঁরা ওই এলাকার ভিক্ষা করতে গিয়েছিলেন। স্থানীয়রা তাদের ছেলেধরা সন্দেহে মারধর করে।