
আমাদপুরের বড়মা কালী
শেষ আপডেট: 1 November 2024 12:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: কালীগ্রাম নামেই পরিচিতি মেমারির আমাদপুর গ্রামের। এই গ্রামে কালীরা চার বোন একসঙ্গেই থাকেন। বড়মা, মেজমা, সেজমা ও ছোটমা নামে তাদের পুজো হয় কালীগ্রাম আমোদপুরে। ৪০০ বছরের বেশি সময় ধরে ১০০-র বেশি কালী পুজো হয়ে আসছে এই গ্রামে। এই গ্রামে দুর্গাপুজো হয় টিম টিম করে, আর কালীপুজো হয় মহা ধূমধাম করে। তাই কালীপুজোকে কেন্দ্র করে উৎসবের আনন্দে মেতে ওঠে গোটা গ্রাম।
গ্রামে ঢুকলে প্রথমেই প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার বড় মা-এর দর্শন পাওয়া যাবে। আরও কিছুটা এগোলেই রয়েছেন প্রায় সম উচ্চতার মেজ মা। তার আশপাশে রয়েছে সেজমা ও ছোটমার মন্দির। এই গ্রামের প্রতি বাড়িতে পুজিতা হন কালী।
চার বোনের পাশাপাশি এই গ্রামে সিদ্ধেশ্বরী, বুড়িমা, ডাকাত কালী, ক্ষ্যাপা মা, আনন্দময়ী মা এরকম ভিন্ন নামে পূজিতা হন দেবী। কালীপুজোর দিন এখানে ভৈরবের পুজোও হয়। পুজো ঘিরে প্রচলিত রয়েছে নানা কাহিনী। মেমারির আমাদপুর এক প্রাচীন জনপথ। কথিত আছে, আগে এখান দিয়েই প্রবাহিত ছিল বেহুলা নদী। বর্তমানে তা মজে গিয়ে খালের আকার নিয়েছে। এক সময়ে বাণিজ্য তরী নাকি যাতায়াত করত এখান দিয়ে। সেই সময়ে দস্যুদের কবলে পড়ে সর্বস্ব খোয়াতে হত বণিকদের। সেই সময়ে আমাদপুরে বেহুলা নদীর ধারে ছিল মহাশ্মশান। সেখানে এক সাধু থাকতেন। সেই সাধু শ্মশানে কালীসাধনা করতেন। বণিকরা দস্যুদের হাত থেকে বাঁচতে এই শ্মশানে কালী মায়ের পুজো দিতেন। শোনা যায়, এরপর থেকেই এই উৎপাত থেকে রক্ষা পেতে শুরু করেন তাঁরা। তখন থেকে দেবীর প্রতি বিশ্বাস জন্মায় তাঁদের। কালী মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পরে দিকে দিকে।
বর্তমানে পুজো কমিটির সদস্য পূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য বলেন, বিসর্জনের সময়ে বড়, মেজ, সেজ আর ছোটমাকে চতুর্দোলায় করে শোভাযাত্রা বের হয়, মশাল জ্বালানো হয়। সারা রাত গোটা গ্রাম ঘোরানোর পরে ভোরবেলায় বিসর্জন হয়। এই চার দেবীর বিসর্জনের পরেই অন্যান্য কালী প্রতিমার বিসর্জন হয়। আশেপাশের জেলা থেকে মানুষজন এসে ভিড় জমান বিসর্জন দেখতে। তারপরেই শুরু হয় পরের বছরের জন্য দিনগোনা।