
জলের স্রোতে ভাঙল কালভার্ট
শেষ আপডেট: 6 August 2024 14:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: দামোদর নদে জল বাড়লে দক্ষিণ দামোদরের তীরবর্তী বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়ে। এই ছবিটা
প্রতিবছরের। এবারেও একই ঘটনা ঘটল। গত ক'দিনের ধারাবাহিক বৃষ্টিতে জল বেড়েছে দামোদরে। জল ছেড়েছে ডিভিসিও৷ এই পরিস্থিতিতে সোমবারই দামোদর নদের উপর শম্ভুপুর ঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দিল জেলা প্রশাসন।পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া অবধি পারাপার বন্ধ থাকবে। এর ফলে সমস্যায় পড়বেন প্রায় ৩৫ টি গ্রামের মানুষ।
জামালপুর ব্লক ও বর্ধমান সদর ২ ব্লকের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে দামোদর নদ। রায়না ও জামালপুর ব্লকের অসংখ্য মানুষের যোগাযোগের অন্যতম ভরসা এই ফেরি। কারণ এখান থেকে স্থায়ী সেতুগুলি দুদিকে ১৮ এবং ১৯ কিলোমিটার দূরে।
একদিকে সদরঘাটের কৃষক সেতু, অপর দিকে জামালপুরের হরেকৃষ্ণ সেতু। মাঝখানে শম্ভুপুর গ্রামে দামোদর নদের ফেরি ঘাট অবস্থিত।
স্থানীয় হরিপুর, জামুদহ, চক্ষণজাদি, বোরো, বালাগড়, মোহনপুর, জামদহ, মধুবন গ্রামের বাসিন্দারা দামোদর নদ পেরিয়ে সহজেই ৩ কিলোমিটার দূরে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক ও ৫ কিলোমিটার দূরে শক্তিগড় স্টেশনে যাতায়াত করেন। এখান থেকে সড়কপথে ও রেলপথে বর্ধমান বা কলকাতা সহজেই পৌঁছনো যায়। এখন ফেরি বন্ধ। তাই নিত্যযাত্রীরা তো সমস্যায় পড়বেনই, কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য ঘুরপথে যেতে হবে বড়শুল বা বর্ধমান। দামোদরে জল কম থাকলে বাঁশের অস্থায়ী সেতু দিয়ে পারাপার করা যায়। বর্ষার সময় বিপদের আশঙ্কায় অস্থায়ী সেই বাঁশের সেতুও খুলে নেওয়া হয়। তাই পারাপারে সঙ্কট বাড়ে। একমাত্র স্থায়ী কংক্রিটের ব্রিজ হলেই বাসিন্দাদের সুরাহা হতে পারে।
গোটা বর্ষায় এই ফেরিই ভরসা এ পার বা ওপারের অসংখ্য মানুষের। স্থানীয় বাসিন্দা জয়দেব পাল বলেন, "জমি চাষের কাজে ও পারে যাই। হঠাৎ এসে শুনলাম পারাপার বন্ধ। বড় সমস্যায় পড়ে গেলাম।"
অতিবর্ষণে সমস্যায় আউশগ্রামের মানুষও। তীব্র জলস্রোতে ভেঙে গেছে রাস্তার কালভার্ট। পাঁচদিন ধরে যাতায়াত বন্ধ আউশগ্রামের দিগনগর ১ পঞ্চায়েতের উপর তেলোতা গ্রামের রাস্তা। তেলোতা, যাদবগঞ্জ, কুমারগঞ্জ, বনপাড়া, রাধামোহনপুর সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষকে ঘুরপথে বাজার হাটে যেতে হচ্ছে। স্কুলে যাতায়াত বন্ধ পড়ুয়াদের। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর আগে তেলোতার এই রাস্তার কাজের টেন্ডার হয়। কাজ শুরু হয়েছিল অনেকদিন আগেই। কিন্তু ঢিমেতালে কাজ চলছিল। এরই মধ্যে অতি বর্ষণে ক্যানেলের জলে পুরনো কালভার্ট ভেঙে ভেসে গেছে। এই রাস্তা বন্ধ হওয়ায় প্রায় ছ'কিলোমিটার ঘুরপথে গ্রামবাসীদের বাজারহাট করতে যেতে হচ্ছে। এই দুর্ভোগের অবসান চাইছেন এলাকাবাসী।
এলাকার বাসিন্দা বদ্রীনারায়ণ পাল জানান, 'পাঁচটা গ্রাম বিচ্ছিন্ন। ৮ থেকে ৯ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে। প্রশাসনিক উদ্যোগ নজরে পড়ছে না।' আর এক বাসিন্দা দেউলেশ্বর পাল জানান, 'কম করে আড়াই হাজার মানুষের বাস এলাকায়। ঠিকাদার তো দু বছর আগেই দায়িত্ব নিয়েছিলেন। কিন্তু কাজ এগোয়নি।'
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার জানান, বাস্তুকাররা এলাকায় যাবেন। আপাতত কাজ চলার মতো একটা ব্যবস্থা করা যায় কী না তা দেখতে বলা হয়েছে। পরে পাকাপাকি সারাইয়ের কাজ করা হবে।