
পিচবোর্ড আর শোলা দিয়ে তার তৈরি রামমন্দির দেখতে কাটোয়ার অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া সুজিত দাসের বাড়িতে পড়শিদের ভিড় - দ্য ওয়াল ফাইল ।
শেষ আপডেট: 17 April 2024 13:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: একরত্তি ছেলের শিল্প কর্মে অভিভূত হলেন কাটোয়ার মানুষ। প্রথাগত কোনও শিক্ষা নেই। তাতে কী! পিচবোর্ড আর শোলা দিয়ে তার তৈরি রামমন্দির চমকে দিয়েছে এলাকার মানুষকে।
কাটোয়া ১ নম্বর ব্লকের পানুহাট রাজমহিষী দেবী উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া সুজিত দাস। ছোট থেকেই টুকটাক জিনিসপত্র তৈরি করতে ভালোবাসে সে। কখনও কারও কাছে শেখেনি। তবুও তার হাতের কাজ একেক সময় তাক লাগিয়ে দেয় সবাইকে। এবার যেমন পিচবোর্ড আর শোলা দিয়ে আস্ত রামমন্দির তৈরি করে ফেলেছে সে।
সুজিত জানায়, গত ২১ সে জানুয়ারি টিভিতে অযোধ্যায় রামমন্দিরের উদ্বোধন দেখে সে। তখনই ঠিক করে এমন একটা মন্দির সেও বানাবে। পরের দিন থেকেই রামমন্দির তৈরির কাজে নেমে পড়ে। এরজন্য কিছু ছোটখাটো জিনিস কিনতে হয়। যেমন পিচবোর্ড, শোলা, আঠা ও রং। চলতে থাকে মন্দির তৈরির কাজ। এখন সুজিতের সেই রামমন্দির দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন পাড়া প্রতিবেশীরা।
সুজিতের বাবা খোকন দাস পেশায় রাজমিস্ত্রি। মা সান্ত্বনা দাস ঘর সামলান। তার বোন সুপর্ণা ক্লাস ফাইভের ছাত্রী। সান্ত্বনা জানান, ছোটবেলায় স্কুলে কর্মশিক্ষার যে কাজ করতে দিতেন মাস্টারমশাইরা সেই কাজ করতে গিয়েই হাতের কাজের প্রতি ভালোবাসা জন্মায় তাঁর ছেলের। তবে বাইরে কোনও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারেননি। তবে মনের আনন্দেই যা যতটুকু জোটাতে পারে তাই কিনে এনে নিজের মতো করে এটা ওটা বানায় সুজিত। এবার যেমন অনেক খেটেখুটে তৈরি করেছে রামমন্দির।
সুজিতের প্রতিবেশীরা ঠিক করেছেন আজ রামনবমীতে এই রামমন্দির নিয়ে কাটোয়া শহরে শোভাযাত্রা বের করবেন তাঁরা। তারপর আবার তা ফিরিয়ে দেবেন সুজিতকে। সুজিত জানাল, এখনও অল্প কাজ বাকি আছে। শেষ করে এই রাম মন্দির বাড়িতেই সাজিয়ে রাখবে সে।
আরও পড়ুন >> ৫০০ বছর পর অযোধ্যার রাম মন্দিরে ধুমধাম করে পালিত হচ্ছে রামলালার জন্মদিন
আরও পড়ুন >> সূর্য যেভাবে চুমু খেল রামলালার কপালে, ‘সূর্য তিলক’ পুরোটাই বিজ্ঞান