হাসপাতালের মর্গ থেকে মৃত যুবকের চোখ খুবলে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিতর্কে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল।

রুদ্রনীল ঘোষ।
শেষ আপডেট: 26 November 2025 14:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাসপাতালের মর্গ থেকে মৃত যুবকের চোখ খুবলে নেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিতর্কে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। এরই মধ্যে ফের সামনে এল নয়া বিতর্ক। যাতে নাম জড়িয়েছে তারকা-অভিনেতা ও বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষেরও (Rudranil Ghosh)।
অভিযোগ, গত ১৯ নভেম্বর নাকি বারাসত হাসপাতালের অতিরিক্ত সুপার ডাঃ সুব্রত মণ্ডলের চেম্বারে লোকজন নিয়ে ঢুকে তাঁকে হুমকি দিয়েছেন রুদ্রনীল। এ ব্যাপারে ২১ তারিখ রুদ্রনীলের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা, অনধিকার প্রবেশ, চিকিৎসকদের ভয় দেখানোর মতো গুরুতর অভিযোগে মামলাও দায়ের করেছেন অতিরিক্ত সুপার।
বুধবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর বিরুদ্ধে বড় দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছেন রুদ্রনীল। টেলিফোনে দ্য ওয়ালকে বললেন, "এখন তো মনে হচ্ছে আমিই ঠিক! বারাসতে তার মানে আর একটা আরজি কর কাণ্ড করার চেষ্টা হচ্ছিল!"
হেঁয়ালি ভেঙে রুদ্রনীল জানান, এক নিমন্ত্রণে যোগ দিতে ১৯ নভেম্বর বারাসতে যান তিনি। সে সময় জানতে পারেন, বারাসতে চিকিৎসা করাতে গিয়ে এক পিজিটি চিকিৎসকের শ্লীলতাহানির শিকার হন মধ্যমগ্রামের এক নাবালিকা। অভিযোগ, চিকিৎসারত অবস্থায় ১৪ বছরের নাবালিকাকে অশালীনভাবে স্পর্শ করেন ওই চিকিৎসক। অভব্য ভাষাতে কথাও বলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রুদ্রনীলের কথায়, "একজন চিকিৎসকের এমন প্রবণতা তো ভয়ঙ্কর। বারাসতের হাসপাতাল নিয়ে আরও কিছু অভিযোগ শুনেছিলাম। এসব নিয়েই কথা বলতে হাসপাতালের অতিরিক্ত সুপারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম।"
তাঁর দাবি, সেদিন অতিরিক্ত সুপারের সঙ্গে হাসিঠাট্টা, গল্প—এসবই হয়েছিল। এমনকি তাঁর অভিনয় আর কবিতা নিয়েও নাকি প্রশংসা করেছিলেন সুব্রতবাবু। পাশাপাশি সেলফিও তুলেছিলেন। রুদ্রনীলের দাবি, "সেদিন অতিরিক্ত সুপারের ঘরে যে কোনও গোলমাল হয়নি, তার প্রমাণও আমার কাছে আছে।"
তাহলে অভিযোগ দায়ের কেন হল? রুদ্রনীলের দাবি, "পরে জানতে পারি, কাকতালীয়ভাবে সেদিনই অতিরিক্ত সুপারের বদলির নির্দেশ আসে। সেই বদলি আটকাতেই পরিকল্পিতভাবে তৃণমূলের লোকজন চাপ সৃষ্টি করে ওই চিকিৎসককে দিয়ে আমার নামে মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করেছেন।"
মঙ্গলবারের চোখ খুবলে নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে রুদ্রনীল আরও বলেন, "তার মানে শুধু শ্লীলতাহানি নয়, মানব দেহ পাচারের মতো গুরুতর কাণ্ডও ঘটছে বারাসত হাসপাতালে। দেখলেন তো মঙ্গলবার বিক্ষোভের মুখে পড়ে মুখ্যমন্ত্রীর কেমন ল্যাজেগোবরে অবস্থা হয়েছিল। তবে চাকরির আশ্বাস দিয়ে উনি পরিস্থিতি ম্যানেজের চেষ্টা করেছেন। যথাযথ তদন্ত হলে হয়তো অনেক কেচ্ছা সামনে আসবে।"
যদিও রুদ্রনীলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অভিযোগ প্রসঙ্গে বারাসত হাসপাতালের অতিরিক্ত সুপার ডাঃ সুব্রত মণ্ডলের কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে বারাসত জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (জোনাল) অতীশ বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন—অভিযোগপত্র হাতে পেয়েই তদন্ত শুরু হয়েছে, ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।