লাতুরামের কথায় ফুটে ওঠে অতীতের আতঙ্ক—“বাংলাদেশে কট্টরপন্থীদের অত্যাচারে এক কাপড়ে চলে এসেছিলাম। এখানে বড় হয়েছি। কিন্তু এসআইআর শুরু হওয়ার পর মনে বড় ভয় ছিল। সিএএ-তেই শেষমেশ ভরসা মিলল। প্রতিশ্রুতিমতো নাগরিকত্ব পেলাম, ভোটাধিকারও পাব।”
.jpeg.webp)
নাগরিকত্বের শংসাপত্র হাতে পেলেন বাংলাদেশ থেকে আসা সিকদার দম্পতি।
শেষ আপডেট: 1 December 2025 15:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (SIR) নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে যখন তপ্ত পরিস্থিতি, ঠিক সেই আবহেই নদিয়ার রানাঘাটে (Nadia) মিলল স্বস্তির খবর। সিএএ-ক্যাম্পে (CAA) আবেদন করে ভারতীয় নাগরিকত্বের শংসাপত্র হাতে পেলেন বাংলাদেশ থেকে আসা সিকদার দম্পতি (Bangladeshi couple)—লাতুরাম ও পদ্মা। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার শেষে নাগরিকত্বের (Indian citizenship) কাগজ হাতে পেয়ে যেন বুক থেকে নেমেছে চাপা আর্তি।
নদিয়ার তাহেরপুর থানার কামগাছি জয়পুরে থাকেন লাতুরাম সিকদার ও তাঁর স্ত্রী পদ্মা। বছর পঁয়ত্রিশ-ছত্রিশ আগে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশ থেকে এ দেশে চলে এসেছিলেন তাঁরা। কেউ ছিলেন সনাতনপুরের বাসিন্দা, কেউ পণ্ডিতপুরের। নদিয়ায় এসে গড়ে তুলেছিলেন নিজেদের নতুন ঠিকানা।
এর মধ্যেই রাজ্যে শুরু হয় এসআইআর প্রক্রিয়া। ২০০২ সালের তালিকায় নাম না থাকায় চিন্তার ভাঁজ গভীরতর হয়েছিল দম্পতির কপালে। কিন্তু কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশ মেনে তাঁরা সিএএ-র ক্যাম্পে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেন। ১০ অক্টোবর জমা দেওয়া সেই আবেদন নভেম্বরের শেষে এসে পৌঁছয় সুখবর হয়ে—হাতে নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট।
“আমরা খুব খুশি,” বলছেন পদ্মা সিকদার, “সবাইকে বলব—যা যা নথি চাওয়া হচ্ছে ঠিকমতো জমা দিন। প্রক্রিয়াটি কঠিন নয়।”
লাতুরামের কথায় ফুটে ওঠে অতীতের আতঙ্ক—“বাংলাদেশে কট্টরপন্থীদের অত্যাচারে এক কাপড়ে চলে এসেছিলাম। এখানে বড় হয়েছি। কিন্তু এসআইআর শুরু হওয়ার পর মনে বড় ভয় ছিল। সিএএ-তেই শেষমেশ ভরসা মিলল। প্রতিশ্রুতিমতো নাগরিকত্ব পেলাম, ভোটাধিকারও পাব।”
রানাঘাট উত্তর-পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়ও জানান, “আমরা প্রথম থেকেই বলেছি আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এই দম্পতি নাগরিকত্ব পেয়েছেন। আরও যারা আবেদন করবেন, তাঁরাও পাবেন।”
এর আগে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় নিহত বিতান অধিকারীর স্ত্রীও সিএএ-র মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন।