
শেষ আপডেট: 23 July 2023 07:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে ফের ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা (Bangladesh Bus Accident)। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে যায় যাত্রাবাহী একটি বাস। সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৭ জন। আহত আরও অনেকে। এই বাস দুর্ঘটনার দুঃস্বপ্ন তাড়া করছে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা যাত্রীদের!
শনিবার সকালে বাংলাদেশের পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থেকে বরিশাল যাচ্ছিল একটি বাস। তিন ধারণের জায়গা ছিল না ওই বাসে। বাসের মাথার ওপরও ছিল ভর্তি যাত্রী। আচমকাই ঝালকাঠির ছত্রকান্দা এলাকায় এসে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বাসটি। রাস্তা থেকে সোজা পড়ে যায় পুকুরের মধ্যে।
দুর্ঘটনার পরই ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুরু হয় উদ্ধার কাজ। কিন্তু ততক্ষণে অনেকে তলিয়ে যান পুকুরের জলেই। বাকিদের উদ্ধার করে ভর্তি করা হয় ঝালকাঠির সদর হাসপাতালে। সেই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন জলিল। হাসপাতালের বেডে শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কথা বলতে গিয়ে চোখের কোণে জল এসে গিয়েছিল জলিলের।
তিনি বলেন, খুব জোরে বাস চলছিল। জালনার ধারের একটা সিটে বসে ছিলেন জলিল। কিন্তু পরে এক মহিলাকে তাঁর আসন ছেড়ে দেন। দাঁড়িয়ে ছিলেন ভিড় বাসের মধ্যে। হঠাৎই বাস সোজা পুকুরে পড়ে যায়। জলিল জানান, 'আধঘণ্টা ওই অবস্থায় ছিলাম। জানলা দিয়ে বেরিয়ে মাথা ভাসছিল পুকুরের জলে। একটা সময় নাকেমুখে জল ঢুকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। মনে হচ্ছিল দম আটকে প্রাণ বেরিয়ে যাবে। আচমকাই কে যেন আমার পা ধরে টান মারেন। তারপর আর কিছু মনে নেই।'
স্ত্রী মিনারা বেগমকে নিয়ে বরিশাল যাচ্ছিলেন বছর ষাটের জলিল। বেশ খোশ মেজাজেই ছিলেন তিনি। স্ত্রীর সঙ্গে গল্প করছিলেন। হঠাৎই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন মিনারা বেগমও। স্বামীর সঙ্গে তিনিও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জলিল বলেন, 'ঈশ্বর আমাদের প্রাণ ভিক্ষা দিয়েছে।'
জলিলরা প্রাণে বেঁচে গেছেন ঠিকই কিন্তু শিশু মহিলা মিলিয়ে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এই বাস দুর্ঘটনায়। জলিল বলেন, 'আমি যে মহিলাকে আমার আসন ছেড়ে দিয়েছিলাম সে বাঁচেনি।' কীভাবে এই দুর্ঘটনা হল তার তদন্ত করছে পুলিশ। তাদের প্রাথমিক অনুমান, অতিরিক্ত ভিড় ও গতি থাকার কারণেই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরের জলে পড়ে গেছে।
৮ মাসের সন্তানকে দু'লাখ টাকায় বিক্রি করলেন মা! অভাবের কাছে হার মানল মাতৃত্ব