ব্যান্ডেল চার্চের ইতিহাস বলছে, ১৫৩৬ সালে পর্তুগিজরা সপ্তগ্রামে বাণিজ্য করতে আসে এবং বসতি গড়ে তোলে। গোয়া থেকে অগস্টিন ফাদারদের নিয়ে এসে ১৫৯৯ সালে ব্যান্ডেলে ছোটো গির্জা তৈরি হয়।

শেষ আপডেট: 22 December 2025 18:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: সেনারা নষ্ট করার পর ফের শাহজাহানই তৈরি করে দিয়েছিলেন ব্যান্ডেল চার্চ। সেই ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে রয়েছে পর্তুগিজদের তৈরি এই চার্চ। গঙ্গার তীরে ব্যান্ডেল ব্যাসিলিকা বহু ইতিহাসের সাক্ষী। চারশো বছরের পুরোনো এই চার্চে সারা বছর ধরে পর্যটকদের আনাগোনা লেগে থাকে। তবে ডিসেম্বর মাস এলেই সেই সংখ্যা বহু গুণ বেড়ে যায়।
ব্যান্ডেল চার্চের ইতিহাস বলছে, ১৫৩৬ সালে পর্তুগিজরা সপ্তগ্রামে বাণিজ্য করতে আসে এবং বসতি গড়ে তোলে। গোয়া থেকে অগস্টিন ফাদারদের নিয়ে এসে ১৫৯৯ সালে ব্যান্ডেলে ছোটো গির্জা তৈরি হয়। ১৬৩২ সালে মোগল সম্রাট শাহজাহানের সৈন্যদের সঙ্গে পর্তুগিজদের যুদ্ধ হয়। ব্যান্ডেল গির্জা ধ্বংস করে মোগল সৈন্যরা। পরে শাহজাহানই গির্জা তৈরির জন্য টাকা দেন। জমি দান করেন। সেইখানে তৈরি হয় গির্জা।
ব্যান্ডেল চার্চে রয়েছে মাদার মেরির স্মারক চাদরের এক টুকরো। পর্তুগালের লিসবন থেকে যা আনা হয়েছিল। চার্চে রয়েছে মাদার মেরির মূর্তি, যা চারশো বছর আগে নদী থেকে পাওয়া গিয়েছিল বলে বিশ্বাস। আর আছে ৩৫ ফুট লম্বা কাঠের তৈরি মাস্তুল। যেটি একটি প্রদর্শশালায় স্থান পেয়েছে।
১৬৫৫ খ্রিস্টাব্দে ব্যান্ডেলে তখন পর্তুগিজদের উপনিবেশ। ওই বছর একদিন একটি পর্তুগিজ জাহাজ বঙ্গোপসাগরে প্রবল ঝড়ের মধ্যে পড়ে। নাবিকরা ঈশ্বরের শরণাপন্ন হন। ক্য়াপ্টেন মেরির কাছে প্রার্থনা করেন, জাহাজ রক্ষা পেলে যাত্রাপথে তিনি প্রথম যে গির্জা দেখতে পাবেন সেখানেই কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে মাস্তুল দান করবেন। পরে জাহাজ নিয়ে গঙ্গা বক্ষ দিয়ে হুগলিতে পৌঁছন। এক সকালে গঙ্গার পাড়ে ব্যান্ডেল চার্চ দেখতে পান। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিনি জাহাজের পালে লাগানো ওই মাস্তুল খুলে ব্যান্ডেল চার্চে দান করেন। তারপর জাহাজ নিয়ে ফিরে যান। সেই মাস্তুল চার্চের সামনে বসানো ছিল।এক ঝড়ে তা ভেঙে পড়ে। বর্তমানে ভারতের পুরাতত্ত্ব বিভাগ সেই মাস্তুলকে সংরক্ষণ করেছে একটি কাঁচের বাক্সে।
নানা অলৌকিক ঘটনা ও বিশ্বাস নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে প্রায় চারশো বছরের প্রাচীন এই ব্যান্ডেল চার্চ। সারাবছর বহু মানুষ আসেন এখানে। তবে বড়দিনের সময় ভিড় হয় সবচেয়ে বেশি। ক্রিসমাস উপলক্ষে সাজিয়ে তোলা হয় ব্যান্ডেল চার্চ। আলোকসজ্জার পাশাপাশি গির্জার সামনে গোশালা তৈরি করা হয়। যেখানে যিশুর জন্ম বৃত্তান্ত তুলে ধরা হয়। ২৪ শে ডিসেম্বর মধ্যরাতে হয় মিড নাইট মাস।
অত্যধিক ভিড়ের কারণে ২৫ ডিসেম্বর ও ১লা জানুয়ারি দু-দিন ব্যান্ডেল চার্চ বন্ধ থাকে দর্শনার্থীদের জন্য। তবে যেখানে গোশালা তৈরি হয়েছে সেখানে যাওয়ার অনুমতি থাকে। বড়দিন উপলক্ষে মেলায় হরেক পসরা নিয়ে সাজিয়ে বসেন দোকানিরা।