সিপিএমের অভিযোগ, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ভাড়াটে তিনতলা ভবনটি ছাড়েননি।
.jpeg.webp)
ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 1 February 2026 16:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোজা আঙুলে ঘি না উঠলে বাঁকা আঙুল প্রয়োগ করতে হয়। বর্ধমানের (Badharmaan) গুসকরায় ভাড়াটের হাত থেকে পার্টি অফিস (Party Office) দখল মুক্ত করতে বহুল ব্য়বহারে জীর্ণ এই প্রবাদকেই কাজে লাগাল সিপিএম (CPM)।
গুসকরা শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লজপাড়া এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা তিনতলা রবীন সেন ভবন এক সময় ছিল বাম রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা। কেবল একটি দালান নয়, দীর্ঘদিন ধরে সিপিএমের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই পরিচিত ছিল এই ভবন। আর্থিক সঙ্কটে পড়ে সেই ভবন লিজে দিতে বাধ্য হয়েছিল দল। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার পরেও দখল না ছাড়ায় দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল টানাপড়েন। শেষমেশ শনিবার শিল্প ধর্মঘটের সমর্থনে বেরোনো মিছিলকে ঘিরে নাটকীয় মোড় নিল সেই বিতর্ক—ভবনের ‘পুনর্দখল’ নিল সিপিএম।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি শিল্প ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সিপিএম। তার সমর্থনে শনিবার গুসকরা শহরে মিছিল করে দলটি। মিছিল লজপাড়া এলাকায় পৌঁছতেই কর্মী-সমর্থকেরা রবীন সেন ভবনের ভিতরে ঢুকে পড়েন। সেখানেই কার্যত ভবনের দখল ফিরে পায় সিপিএম। দলের গুসকরা শহর এরিয়া কমিটির সম্পাদক ইরফান শেখের দাবি, “আর্থিক সমস্যার কারণে একসময় ভবনটি লিজে দিতে হয়েছিল। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও ভাড়াটে ভবন ছাড়েননি। বহুবার অনুরোধ করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত কর্মীরাই শান্তিপূর্ণ ভাবে দখল নেন। কোথাও কোনও অশান্তি হয়নি।”
রবীন সেন ভবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গুসকরার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস। ১৯৯৯ সালের মে মাসে রাজ্যের তৎকালীন মন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ চৌধুরীর হাতে উদ্বোধন হয়েছিল ওই ভবনের। তার পর দীর্ঘদিন সেখান থেকেই গুসকরা শহরে সিপিএমের সাংগঠনিক কাজকর্ম পরিচালিত হত। তবে ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে সংগঠন। আর্থিক সঙ্কট সামাল দিতে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে গুসকরার বাসিন্দা, পেশায় প্রোমোটার স্বপন পালকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার চুক্তিতে ভবনটি লিজ়ে দেওয়া হয়।
সিপিএমের অভিযোগ, ২০২২ সালের জানুয়ারিতে লিজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ভাড়াটে তিনতলা ভবনটি ছাড়েননি। একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁকে সরাতে পারেনি দল। সম্প্রতি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছিল সিপিএম। যদিও ভাড়াটের দাবি ছিল, নিয়ম মেনেই ভাড়া দেওয়া হয়েছে এবং কোনও অনিয়ম হয়নি।
এই ভবন ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতরও কম হয়নি। শাসকদল তৃণমূল কটাক্ষের সুরে মন্তব্য করলেও প্রয়োজনে সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিল বলে দাবি সিপিএম নেতৃত্বের। তবে শনিবার ভবন ‘পুনর্দখল’ হওয়ার পর ভাড়াটের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।