হাওড়া–বেঙ্গালুরু এক্সপ্রেসে চলন্ত ট্রেনেই কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন এক তরুণী। পরে বেলদা স্টেশনে নামিয়ে মা ও নবজাতককে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ওই তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে
শেষ আপডেট: 6 March 2026 18:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চলন্ত ট্রেনেই কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন এক পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের তরুণী। ঘটনাটি ঘটেছে ডাউন এসএমভিটি বেঙ্গালুরু–হাওড়া সুপারফাস্ট যশবন্তপুর এক্সপ্রেসে (SMVT Bengaluru–Howrah Superfast Yeshwantpur Express, Train No. 12864)। ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। পরে রেল পুলিশ (Railway Police) ও রেলকর্মীদের তৎপরতায় প্রসূতি ও সদ্যোজাত শিশুকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অসমের (Assam) দারাং জেলার (Darrang District) ডালগাঁও থানা (Dalgaon Police Station) এলাকার ১ নম্বর শিয়ালমারি (Sialmari) গ্রামের বাসিন্দা ৩৫ বছরের কচিরান নেশা। স্বামী বাহারুলের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কর্নাটকে (Karnataka) থাকতেন। বাহারুল সেখানে একটি চা বাগানে শ্রমিকের কাজ করেন।
প্রসবের সময় ঘনিয়ে আসায় তাঁরা বেঙ্গালুরু থেকে নিজেদের বাড়ির উদ্দেশে ট্রেনে রওনা দেন। ট্রেনটি যখন ওড়িশা (Odisha)-র বালেশ্বর স্টেশন (Balasore Station) ছেড়ে এগোচ্ছে, ঠিক তখনই কচিরানের তীব্র প্রসববেদনা শুরু হয়। পরিস্থিতি বুঝে কামরার অন্য মহিলারা দ্রুত এগিয়ে আসেন। তাঁদের সহযোগিতাতেই ট্রেনের মধ্যেই একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি।
ঘটনার কথা সঙ্গে সঙ্গে ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত টিকিট পরীক্ষক (Ticket Examiner)-কে জানানো হয়। তিনি দ্রুত রেল পুলিশ (Railway Police) এবং খড়গপুর কন্ট্রোল রুমে (Kharagpur Control Room) খবর পাঠান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ডাউন যশবন্তপুর এক্সপ্রেসকে তড়িঘড়ি বেলদা স্টেশনে (Belda Station) থামানোর ব্যবস্থা করা হয়।
ট্রেনটি বেলদায় পৌঁছতেই রেল পুলিশের একটি দল সেখানে প্রস্তুত ছিল। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রসূতি ও সদ্যোজাতকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দ্রুত বেলদা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে (Belda Super Speciality Hospital) নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মা ও নবজাতক কন্যা—দু'জনেই বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে সহযাত্রী ও রেলকর্মীদের দ্রুত সহযোগিতাতেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে রেল কর্তৃপক্ষ।