দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার বেলা পৌনে ১১ টা নাগাদ এক যাত্রীকে নামিয়ে বাড়িয়ে ফিরছিলেন দিল্লির অটো ড্রাইভার পবন শাহ। কনকনে ঠান্ডার মধ্যে তিনি লক্ষ করেন, মিঠাপুর ব্রিজের একদম কিনারায় দাঁড়িয়ে আছেন এক মহিলা। তাঁর কোলে শিশু।
পবনের নজরে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মহিলা শিশু কোলে নিয়ে খালে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দু’জনকে বাঁচাতে বরফ শীতল জলে ঝাঁপ দেন পবনও। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি কিছু দূর সাঁতরে গিয়ে মহিলা ও শিশুটিকে ধরতে পারেন। কিন্তু বুঝতে পারেন, একা দু’জনকে বাঁচাতে পারবেন না। তখন সাহায্যের জন্য চিৎকার শুরু করেন। চিৎকার শুনে তিন পথচারী, রাজবীর, জামিল ও সঞ্জীব দৌড়ে আসেন। তাঁরা দেখেন, পবন প্রাণপণে মহিলা ও তাঁর শিশুর মাথাটি জলের ওপরে ভাসিয়ে রাখতে চেষ্টা করছেন।
তিনজন মানব শৃঙ্খল তৈরি করে মহিলা ও তাঁর শিশুকে উদ্ধার করেন। কিন্তু পবনকে তাঁরা উদ্ধার করতে পারেননি। কারণ অতক্ষণ ধরে সাঁতার কেটে পবন নিজে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁকে পাড়ে টেনে আনার আগেই তিনি উদ্ধারকারীদের হাত ফসকে স্রোতে ভেসে যান।
উদ্ধারকারী তিনজন দেখেন, পবন স্রোতের টানে ক্রমশ দূরে চলে যাচ্ছেন। তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে ফোন করেন। জৈতপুর থানার পুলিশের উদ্ধারকারী দল পবনের খোঁজ করতে থাকে। খালে ডুবুরি নামানো হয়। কিন্তু তাঁর খোঁজ মেলেনি। পুলিশ ধরে নিচ্ছে, তিনি মৃত।
দিল্লির ডিসিপি (সাউথ ইস্ট) চিন্ময় বিসোয়াল জানিয়েছেন, পবনের নাম জীবন রক্ষা সাহসিকতা পুরস্কারের জন্য সুপারিশ করা হবে।
যে মহিলা ও শিশুকে পবন উদ্ধার করেছেন, তাঁদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁদের বিপদমুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। মহিলা জানিয়েছেন, শুক্রবার রাতে স্বামীর সঙ্গে তাঁর ঝগড়া হয়েছিল। তাই তিনি এক বছরের শিশু পুত্রকে নিয়ে ডুবে মরতে গিয়েছিলেন।
একটি সমীক্ষায় জানা যায়, প্রতি বছর যত ভারতীয়ের মৃত্যু হয়, তাঁদের এক বড় অংশই আত্মহত্যা করেন। মূলত ১৫ থেকে ৩৯ বছরের যুবক-যুবতীরাই আত্মহত্যা করেন বেশি। প্রতি বছর সারা বিশ্বে যতজন আত্মহত্যা করেন, তাঁদের ৩৭ শতাংশ ভারতীয়।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ এবং পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়ার যৌথ সমীক্ষায় জানা যায়, মহিলারাই আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বেশি। কিন্তু আত্মহত্যায় মৃত্যুর হার বেশি পুরুষদের। সারা বিশ্বে প্রতি বছর যত মেয়ে আত্মহত্যা করে, তাদের বেশির ভাগ ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী।