হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই বনগাঁ তৃণমূল জেলা পার্টি অফিসে পুরপ্রধান গোপাল শেঠের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে কাউন্সিলরদের বৈঠক হয়েছিল। পাঁচজন কাউন্সিলর সেখানে ভোট না করেই বেরিয়ে আসেন—তাদের মধ্যে ছিলেন শিখা ঘোষ-সহ আক্রান্তরা।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 20 November 2025 12:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত নামতেই উত্তেজনার পারদ চড়ল বনগাঁয় (Bangaon)। বুধবার গভীর রাতে তৃণমূলের কাউন্সিলর (Tmc women councilor) শিখা ঘোষ এবং ওয়ার্ড সভাপতি উত্তম ঘোষের বাড়িতে দুষ্কৃতীদের হামলার অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
ধু শিখাদেবী নন, তৃণমূলের আরও দুই মহিলা কাউন্সিলরের বাড়িতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। অভিযোগ, নেশাগ্রস্ত একদল যুবক প্রথমে বাড়ির সামনে এসে গালিগালাজ শুরু করে। তারপরই শুরু হয় তাণ্ডব—ইট ছোড়া, সিসিটিভি ভাঙচুর, ভয় দেখানোর চেষ্টা।
কারা হামলা চালাল?
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে শাসকদলের গোষ্ঠীকোন্দল। হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই বনগাঁ তৃণমূল জেলা পার্টি অফিসে পুরপ্রধান গোপাল শেঠের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে কাউন্সিলরদের বৈঠক হয়েছিল। পাঁচজন কাউন্সিলর সেখানে ভোট না করেই বেরিয়ে আসেন—তাদের মধ্যে ছিলেন শিখা ঘোষ-সহ আক্রান্তরা।
স্বভাবতই, দুষ্কৃতীদের হামলার নেপথ্যে সেই অনাস্থা-রাজনীতি এবং কাউন্সিলরের ‘গোপাল শেঠ-ঘনিষ্ঠতা’কেই দায়ী করেছেন আক্রান্তরা। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এলাকার রাজনৈতিক মহলেও চাঞ্চল্য।
আক্রান্ত তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী উত্তম ঘোষের দাবি, “প্রায় শতাধিক বাইক এসে দাঁড়ায় বাড়ির সামনে। এরপরই শুরু হয় গালিগালাজ ও ভাঙচুর। পুলিশকে ফোন করেও তৎপরতা পাইনি।” দম্পতির দাবি—নিরাপত্তাহীনতা এতটাই বাড়ছে যে তাঁদের বাড়িতে এমন হামলা হলে সাধারণ মানুষ নিজেকে কতটা অসুরক্ষিত ভাববেন, তা সহজেই আন্দাজ করা যায়।
বিজেপির দেবদাস মণ্ডল বলেন, “পুরসভা দখলকে কেন্দ্র করে চেয়ারম্যান এবং তৃণমূল সভাপতির মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। তারই ফল এই হামলা।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলাকারীদের শীঘ্রই চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে।