শুক্রবার শাসক দলে যুক্ত হলেন অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন। এদিন রাজ্যের তিন মন্ত্রী গৌতম দেব, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবং ব্রাত্য বসুর উপস্থিতিতে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন।

তৃণমূলে স্বপ্না বর্মন
শেষ আপডেট: 27 February 2026 12:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (West Bengal Elections 2026) নির্ঘণ্ট প্রকাশের আগে ফের বড় যোগদান তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC)। শুক্রবার শাসক দলে যুক্ত হলেন অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মন (Athlete Swapna Burman)। এদিন রাজ্যের দুই মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, ব্রাত্য বসু এবং শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেবের উপস্থিতিতে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন।
২০১৮ সালে এশিয়ান গেমসে সোনা (Gold In Asian Games) জিতেছিলেন স্বপ্না বর্মন। তবে পরবর্তী সময়ে পীঠে ব্যথার কারণে অ্যাথলেটিক্সের ট্র্যাক ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁকে অর্জুন পুরস্কারেও সম্মানিত করা হয়েছে। সম্প্রতি শিলিগুড়িতে মহাকাল মহাতীর্থের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের অনুষ্ঠানে স্বপ্না বর্মনকে সংবর্ধনা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মঞ্চেই তাঁদের কিছুক্ষণ কথা বলতে দেখা গিয়েছিল। তারপরই জল্পনা ছড়িয়েছিল যে তিনি রাজনীতিত তথা তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। অবশেষে সেই জল্পনাই সত্যি হল। বর্তমানে স্বপ্না নর্থ ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলের কর্মী।
উত্তরবঙ্গের দিকে এবার যে তৃণমূল বিশেষ নজর দিয়েছে তা বলাই বাহুল্য। স্বপ্না বর্মনের আগে উত্তরবঙ্গ থেকে কার্শিয়ংয়ের বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মাকে দলে টেনেছে তাঁরা। গত ১৯ তারিখ তৃণমূল ভবনে রাজ্যের দুই মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও শশী পাঁজার উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শাসক দলে নাম লেখান তিনি।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে (Assembly Election) কার্শিয়ং কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়ে জয়ী হয়েছিলেন বিষ্ণুপ্রসাদ। সেই বার তিনি গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা (তামাং)-এর প্রার্থী শেরিং লামা দহলকে ১৫,৫১৫ ভোটে পরাজিত করেন। পরে বিজেপিতে যোগ দেন এবং বিধানসভায় গেরুয়া শিবিরের সদস্য হিসেবেই ছিলেন এতদিন।
তবে সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা অধিবেশনে তাঁর মন্তব্য ঘিরেই জল্পনা শুরু হয়। তিনি বলেছিলেন, “আমি আর রাজনীতির সঙ্গে নেই। এখন আমি মুক্ত পাখি, শৃঙ্খলমুক্ত।” সেই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছিল তাঁর ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে।
অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন পাহাড়ের এই বিধায়ক। ভোটের প্রাক্কালে এই দলবদল পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।