দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকাতে ভারতীয় আয়ুর্বেদ নিয়ে বড় গবেষণা শুরু হল দিল্লির ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে। কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রকের উদ্যোগে
দিল্লি আইআইটি-র সঙ্গে এই গবেষণায় হাত মেলাল
জাপানের অন্যতম বড় সায়েন্স রিসার্চ ফার্ম
‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড ইন্ডাস্ট্রিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ (AIST)। করোনা ঠেকাতে চার আয়ুর্বেদিক ওষুধ যেমন
অশ্বগন্ধা, যষ্টিমধু, গুড়ুচি পিপলি ও আয়ুষ ৬৪ এর সুফলের কথা আগেই বলেছিল কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রক। দিল্লি আইআইটি-র গবেষকরা বললেন, অশ্বগন্ধার মধ্যে এমন উপাদানের খোঁজ মিলেছে যা ভাইরাল প্রোটিন নষ্ট করে দিতে পারে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে আয়ুর্বেদের সবচেয়ে বড় ভরসা হতে পারে অশ্বগন্ধা, এমনটাই বলছেন এই গবেষণার নেতৃত্বে থাকা অধ্যাপক, বিজ্ঞানী ডি সুন্দর। তিনি কেন্দ্রের বায়োটেকনোলজি বিভাগ ও জাপানের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যাডভান্সড ইন্ডাস্ট্রিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’ ফার্মের যৌথ গবেষণার দায়িত্বে রয়েছেন।

করোনা প্রতিরোধে এই চার আয়ুর্বেদিক প্রতিষেধকের মিশ্রণ প্রোফাইল্যাকটিক ড্রাগ হিসেবে ব্যবহার করার কথা বলেছিল কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রক। ঝুঁকিপূর্ণ কাজ যাঁরা করেন যেমন ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, প্যারাডেমিক্যাল স্টাফ, তাছাড়া করোনা মোকাবিলায় জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্তদের শরীরে এই চার প্রতিষেধক দিয়ে ট্রায়াল শুরু করার বৃহত্তর পরিকল্পনা করেছে আয়ুষ মন্ত্রক ও কেন্দ্রের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের অধীনস্থ কাউন্সিল ফর সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চও (সিএসআইআর)। গবেষক সুন্দর বলছেন, ভাইরাসের মোকাবিলায় শরীরে জোরালো প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষমতা যেমন আছে এই আয়ুর্বেদিক প্রতিষেধকের, তেমনি ভাইরাসকে কাবু করার ক্ষমতাও আছে অশ্বগন্ধার। এই ভেষজ উদ্ভিদের বিশেষ উপাদান মুখোমুখি লড়াই করতে পারে ভাইরাসের সংক্রামক প্রোটিনের সঙ্গে। নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে ভাইরাসকে।
সেটা কীভাবে? তার আগে দেখে নেওয়া যাক মানুষের শরীরে অশ্বগন্ধার উপকারিতা কী কী।
অশ্বগন্ধা শক্তিবর্ধক, নানা রোগের দাওয়াই হতে পারে
এই ভেষজ উদ্ভিদের মূল, পাতা, ফুল, ফল, গাছের ডাল, ছাল সবই ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই গাছের রস শক্তিবর্ধক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আয়ুর্বেদ বিজ্ঞানে অশ্বগন্ধার বহুগুণের কথা বলা হয়। এর মূল ও পাতা স্নায়বিক রোগ নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়। অনিদ্রা, মানসিক চাপ, উত্তেজনা, স্ট্রেস কমাতে অশ্বগন্ধা থেকে তৈরি ওষুধের বিশেষ ভূমিকা আছে। তাছাড়া ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, সর্দি-কাশি সারাতে, মানসিক ও শারীরিক দুর্বলতা, প্রদাহজনিত রোগ, পেটের রোগ, হজমের সমস্যা দূর করতে অশ্বগন্ধার ব্যবহার হয়। করোনার সংক্রমণে যেহেতু নানা রোগ ধরা দিচ্ছে শরীরে, তাই প্রতিষেধক হিসেবে এই ভেষজ উদ্ভিদকে ব্যবহার করার কথা ভাবা হয়। শুধু রোগ প্রতিরোধক হিসেবে নয়, ভাইরাসের মোকাবিলায় অশ্বগন্ধার ভূমিকা কতটা সেটা জানতেই গবেষণা শুরু হয় দিল্লি আইআইটি-তে। সেখানেই বিজ্ঞানীরা অশ্বগন্ধার আরও একটি গুণের কথা সামনে আনেন।
করোনার সংক্রামক প্রোটিনকে ভেঙে দিতে পারে অশ্বগন্ধার বিশেষ উপাদান
গবেষক সুন্দর বলছেন, সার্স-কভ-২ আরএনএ ভাইরাসের কিছু প্রোটিনই মানুষের শরীরে সংক্রামক হয়ে উঠেছে। ভাইরাল প্রোটিনগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার পদ্ধতি বার করতেই এত গবেষণা চলছে বিশ্বজুড়ে। ভাইরাল প্রোটিন ভাঙতে পারে এমন অ্যান্টিবডির খোঁজও চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। অশ্বগন্ধার মধ্যে প্রাকৃতিকভাবেই এমন উপাদান রয়েছে যা আরএনএ ভাইরাসের মূল সংক্রামক প্রোটিনকে চিহ্নিত করে তাকে ভেঙে দিতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনার এই মূল সংক্রামক প্রোটিন হল
‘মেন প্রোটিয়েস’ (Mpro) । এই প্রোটিনই ভাইরাসকে প্রতিলিপি তৈরি করে সংখ্যায় বাড়তে সাহায্য করে। করোনাকে কাবু করতে হলে এই প্রোটিনকেই আগে টার্গেট করতে হবে। অশ্বগন্ধার উপাদান
Withanone (Wi-N) এই প্রোটিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাকে ভেঙেচুরে দিতে পারে। এই উপাদানের সঙ্গেই আরও একটি উপাদান
ক্যাফেইক অ্যাসিড ফেনেথিল ইস্টার (CAPE)যোগ করেছেন বিজ্ঞানীরা। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, এই দুই উপাদানের মিলিত প্রভাব ওই মূল সংক্রামক প্রোটিনকে ভেঙে নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে।
গবেষক সুন্দর বলছেন, এই গবেষণার রিপোর্ট খুব তাড়াতাড়ি সামনে আনতে পারে ‘জার্নাল ফর বায়োমলিকিউলার স্ট্রাকচার অ্যান্ড ডায়ানামিক্স’ । অশ্বগন্ধার ওই বিশেষ উপাদান নিয়ে গবেষণা এখনও চলছে। বিস্তারিত তথ্য খুব তাড়াতাড়ি সামনে আনা হবে। কোভিড প্রতিরোধী ওষুধ বানাতে এই উপাদানকে কীভাবে ব্যবহার করা যায় তার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।