বুধবার পূর্বনির্ধারিত স্বাস্থ্যভবন অভিযান ঘিরে কলকাতা-সহ জেলায় জেলায় যে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তারই প্রতিবাদে এদিন কলকাতা থেকে রাজ্যের নানা প্রান্তে পথে নামেন তাঁরা।
.jpeg.webp)
নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 22 January 2026 15:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলিশের বাধা, ধরপাকড় ও হুমকি, হয়রানির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতিতে নামলেন আশাকর্মীরা (ASHA workers)। বুধবার পূর্বনির্ধারিত স্বাস্থ্যভবন অভিযান ঘিরে কলকাতা-সহ জেলায় জেলায় যে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তারই প্রতিবাদে এদিন কলকাতা থেকে রাজ্যের নানা প্রান্তে পথে নামেন তাঁরা।
রাজ্য আশা কর্মী ইউনিয়নের সম্পাদিকা ইসমাত আরা খাতুন বলেন, “শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের উপর যেভাবে পুলিশি রোলার চালানো হয়েছে, হুমকি–হয়রানি ও গ্রেফতার করা হয়েছে, তার তীব্র প্রতিবাদেই রাজ্যজুড়ে বিক্ষোভ। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার কর্মবিরতি চলবে। এই অবস্থায় সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়লে তার দায় প্রশাসনের।”
আশাকর্মীদের অভিযোগ, বুধবার বৈঠকের জন্য ডেকে এনে শেষ মুহূর্তে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের দমন করা হয়েছে। ইসমাত আরা খাতুন জানান, ১৫ তারিখ স্বাস্থ্য দফতরের কাছে সময় চাওয়া হলে জানানো হয় স্বাস্থ্যসচিব ছুটিতে থাকবেন, তাই ২১ তারিখ আসতে বলা হয়। সেই নির্দেশ মেনেই বুধবার অভিযান কর্মসূচি নেওয়া হয়। অথচ মঙ্গলবার রাত থেকেই পুলিশের বাধা শুরু হয় বলে অভিযোগ। স্বাস্থ্যভবন অভিযানে অনড় থাকায় বুধবার সকাল থেকেই কলকাতা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
গ্রাম ও শহরতলির প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার মেরুদণ্ড আশাকর্মীরাই। মাতৃস্বাস্থ্য, শিশু টিকাকরণ, পুষ্টি ও স্যানিটেশন থেকে শুরু করে যক্ষ্মা–এইচআইভি-সহ নানা রোগ শনাক্ত করে রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া, সব ক্ষেত্রেই তাঁদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত চেক-আপ, প্রসব-পূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী নজরদারি, স্বাস্থ্যশিবির, ওষুধ পৌঁছনো ও কমিউনিটি সচেতনতার কাজ বন্ধ হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে জনস্বাস্থ্যে—এই আশঙ্কা ক্রমশ জোরাল হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, বুধবার ডেপুটেশনে না আসার কথা আগেই জানানো হয়েছিল। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, পশ্চিমবঙ্গ অন্য রাজ্যের তুলনায় আশাকর্মীদের বেশি পারিশ্রমিক দেয়। পুলিশের বক্তব্য, সেই নির্দেশ উপেক্ষা করেই পরিকল্পিতভাবে অশান্তি তৈরির চেষ্টা হচ্ছিল, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই কড়া ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।
তবে আন্দোলনকারীরা অনড়। তাঁদের মূল দাবির মধ্যে রয়েছে—মাসিক সম্মানী ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা, স্থায়ী সরকারি কর্মীর মর্যাদা, মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং পাঁচ লক্ষ টাকার বিমা। পুলিশি ‘জুলুম’-এর প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ চলবে বলেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে ‘রাজনৈতিক ফাঁদে পা না দেওয়ার’ বার্তা দিয়ে বুধবারই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। কিন্তু কেউ কেউ রাজনৈতিকভাবে আপনাদের ব্যবহার করতে চাইছে। সেই ফাঁদে পা দেবেন না।” যদিও মন্ত্রীর এই অভিযোগ নস্যাৎ করে নিজেদের দাবিতে অনড় আশাকর্মীরা। ফলে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ করে, তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে।