
শেষ আপডেট: 12 November 2023 14:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: ভূতচতুর্দশীর দিনে ভূতেদের নাকি মুক্তি দেওয়া হয় এখানে। কালীপুজোর রাতে ফের মন্ত্রবলে তাদের বেঁধে ফেলা হয় বটগাছে। তাই ভূতচতুর্দশীর দিনে ভূতেদের জন্য ভোগ রান্না করেন আসানসোলে মহিশীলা কলোনীর বাসিন্দারা। ৭০ বছর ধরে এই বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে তাঁরা ভূতেদের ভোগ খাওয়াচ্ছেন।
আসানসোলের মহিশীলা ১ নম্বর কলোনিতে পিয়ালবেড়া শ্মশানের বটগাছে নাকি ভূতদের বেঁধে দিয়ে গিয়েছিলেন বামাক্ষ্যাপার অন্যতম প্রধান শিষ্য বনমালী ভট্টাচার্য। বনমালীবাবু নেই। কিন্তু সেই গাছে নাকি আজও রয়ে গেছে ভূতেদের দল।
মাত্র ৭ বছর বয়সে নদিয়ার বনমালী ভট্টাচার্য বামাক্ষ্যাপার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তান্ত্রিক বনমালী ভট্টাচার্যকে সাধন-আশ্রম গড়ে তোলার জন্য মহিশীলার পিয়ালবেড়া শ্মশানে জমি দান করেছিলেন আসানসোল গ্রামের রায় পরিবার। তখন পিয়ালবেড়া শ্মশান ছিল জঙ্গলে ভরা নির্জন এক স্থান। সেখানে নাকি তখন ভূতদের খুব উপদ্রব ছিল। রাতে কারও মৃত্যু হলে ভয়ে শ্মশানে যেতে পারতেন না বাসিন্দারা। সূর্যের আলো ফোটার অপেক্ষা করতে হত দাহ কাজের জন্য। সেই নির্জন স্থানে সাধনা শুরু করেন বনমালীবাবু। শুধু তাই নয়, এলাকায় যাতে অনিষ্ট করতে না পারে, তাই সমস্ত ভূতেদের একটি গাছে তিনি মন্ত্রবলে বেঁধে দেন।
সেই বিশ্বাসে শনিবার ভূতদের বাঁধন ছাড়া করতে পুজো হয়ে গেল পিয়ালবেড়া শ্মশানে। তারামা-র নাম উচ্চারণ করে খোলা হল ভূতেদের বাঁধন। রবিবার ফের তারামায়ের মন্ত্র পড়ে ভূতেদের বেঁধে ফেলা হবে।