
শেষ আপডেট: 12 November 2023 15:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: দেবী এখানে গুহাবাসিনী। মন্দিরের গর্ভগৃহে রয়েছে দেবীর রত্নখচিত মূর্তি। রবিবার কালীপুজোর দিনে আসানসোলের কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে উপচে পড়ল ভিড়।
কথিত আছে, বল্লাল সেনের কন্যার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল কাশীপুরের রাজা কল্যাণী প্রসাদের। তখন দেবী শ্যামারূপাকে যৌতুক হিসেবে পান রাজা কল্যাণী প্রসাদ। কিন্তু বিয়ে করে বাড়ি ফেরার পথে গভীর জঙ্গলে দিক হারিয়ে ফেলেন কল্যাণী প্রসাদ ও তাঁর স্ত্রী। তখন শ্যামারূপাকে গাছের নীচে রেখে পথ খুঁজতে থাকেন রাজা। পথ খুঁজে পেলেও মাটি থেকে দেবী মূর্তি তুলতে পারেননি তিনি। পরে সেই জায়গায় তৈরি হয় এই মন্দির। রাজা কল্যাণী প্রসাদের নাম অনুসারে এই মন্দিরের নাম হয় কল্যাণেশ্বরী।
প্রায় আটশো বছরের পুরনো এই মন্দিরে প্রতি বছর কালীপুজোর রাতে নৈবেদ্য পাঠানো হয় কাশীপুর রাজবাড়ি থেকে। পুজোয় রাজার নামেই প্রথম সঙ্কল্প করা হয়। দেবীর শাঁখা আসে দামোদরের শাঁখারি পরিবার থেকে। কথিত আছে, এখানে দেবী চালনাদহের ঘাটে একসময় পথচলতি এক শাঁখারিকে ডেকে নিজে দর্শন দেন। তাঁর কাছ থেকে শাঁখা পরতে চান।
লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে যে, এই মন্দিরে প্রথম সিদ্ধিলাভ করেছিলেন কাপালিক দেবীদাস চট্টোপাধ্যায়। সেই দেবীদাসকে নিজের বাবা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন দেবী। সেই থেকেই নাকি এই কল্যাণেশ্বরী মন্দির হয়ে ওঠে সিদ্ধপিঠ।
পাহাড় কেটে তৈরি হয়েছিল এই মন্দির। কল্যাণেশ্বরী মন্দিরে কোনও মূর্তি পুজো হয় না। এক সময় ঘন জঙ্গলে ঘেরা ছিল এই মন্দির। বাঘ ঘোরাফেরা করত। তাই সন্ধে নামার আগেই হয়ে যেত আরতি। বন্ধ হয়ে যেতে মন্দিরের দরজা। সেই রীতি আজও রয়ে গেছে। তবে কালীপুজোর দিন সারারাত ধরে মন্দির খোলা থাকে। ভোগ বিতরণ হয়।
ভক্তদের বিশ্বাস দেবী খুবই জাগ্রত। সকল মনোস্কামনা পূর্ণ করেন। কালীপুজোর দিন রাত ৯টা থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত পুজো হয়। ছাগ বলির প্রচলন রয়েছে। এই মন্দিরকে ঘিরে এখানে মাইথন ভ্রমণকেন্দ্রও গড়ে উঠেছে।