অভিষেক ঠাকুরনগর ছাড়তেই গোবর জল দিয়ে রাস্তা ধুয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 9 January 2026 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে এসআইআর (SIr West Bengal) ঘিরে উত্তেজনার আবহে মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে বলে অভিযোগ করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তাঁর দাবি, এই পরিকল্পনার নেপথ্যে রয়েছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার (BJP) এবং উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকার মতুয়া অধ্যুষিত অঞ্চলের বিজেপি জনপ্রতিনিধিরাই তাদের সহযোগী। যে মতুয়া সম্প্রদায়কে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েও কথা রাখেননি খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi), সেই মতুয়া গড়েই বিজেপি জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে ‘রিপোর্ট কার্ড’ পেশ করার দাবি তুললেন অভিষেক। অন্যদিকে, অভিষেক ঠাকুরনগর ছাড়তেই গোবর জল দিয়ে রাস্তা ধুয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর।
শুক্রবার কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং ঠাকুরবাড়ি ও বড়মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই ঠাকুরনগরে যান অভিষেক। সেখানে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি তিনি বলেন, এই মন্দিরে তাঁর আসার অধিকার রয়েছে। ২০২৩ সালে তাঁকে ঠাকুরবাড়িতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলেও স্মরণ করান তিনি। তখন বাইরে দাঁড়িয়েই ঠাকুর হরিচাঁদের কাছে প্রার্থনা করেছিলেন বলে জানান অভিষেক। তাঁর কথায়, সেই ঘটনার জবাব মানুষই দিয়েছে পঞ্চায়েত নির্বাচনে। বাংলার রীতি অনুযায়ী মানুষ এখানে এসে মনের কথা বলবে, শ্রদ্ধা জানাবে— এটাই স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঠাকুরবাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রসঙ্গ তোলেন অভিষেক। তাঁর অভিযোগ, ভোটে জিতে যাওয়ার পর যাঁরা মতুয়া সমাজকে কার্যত বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখাচ্ছেন, তাঁরা কখনও এই মানুষের পাশে দাঁড়াননি। অথচ সেই জনপ্রতিনিধিরাই এখন বলছেন, ভোটার তালিকা থেকে এক লক্ষ নাম বাদ পড়লেও সমস্যা নেই। অভিষেকের কথায়, এটা তাঁর দলের বক্তব্য নয়, বরং যাঁদের বিপুল আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মানুষ নির্বাচিত করেছিলেন, তাঁদেরই ভাষা। তিনি স্পষ্ট করে জানান, বনগাঁ ও রানাঘাট এবং আশপাশের এলাকার মানুষ আগামী দিনে এর জবাব দেবে।
মতুয়াদের বঞ্চনা যে আজকের নয়, তা বোঝাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নাম টেনে আনেন অভিষেক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী এসে যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়ে গিয়েছিলেন, তার একটিও পূরণ হয়নি। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক বড জাগুলিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারণ হয়নি, কল্যাণীতে এইমস গড়ার ঘোষণাও এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনও প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি। অভিষেকের কটাক্ষ, যদি মতুয়া ভাইবোনেরা অবৈধ হন, তা হলে প্রধানমন্ত্রী নিজেও অবৈধ। তিনি বিজেপি জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন, এই মহকুমা বা জেলার জন্য তাঁদের সরকার কী করেছে— তার বিস্তারিত রিপোর্ট কার্ড সামনে আনুন। তৃণমূল যে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট কার্ড নিয়ে বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে, সে কথাও স্মরণ করান তিনি।
পাশাপাশি মতুয়াদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তাকেও বিজেপির চক্রান্ত বলে দাবি করেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, এখন নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে গিয়ে পাসপোর্ট, ভিসা সংক্রান্ত পুরনো নথির জটিলতায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। হয় নিঃশর্ত নাগরিকত্ব দিন, না হলে ক্ষমতা ছাড়ুন— এই দাবিতেই বক্তব্য শেষ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।