দ্য ওয়াল ব্যুরো : ৮২ বছর বয়সে মারা গেলেন রামায়ণ সিরিয়ালে রাবণ চরিত্রের অভিনেতা অরবিন্দ ত্রিবেদি (Arvind Tribedi)। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন রাম চরিত্রের অভিনেতা অরুণ গোভিল। তিনি অরবিন্দ ত্রিবেদি সম্পর্কে লিখেছেন, 'মাই ডিয়ার ফ্রেন্ড'। রামায়ণ সিরিয়ালে লক্ষ্মণের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন সুনীল লাহিড়ি। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, "খুবই দুঃখজনক খবর হল আমাদের সকলের প্রিয় বন্ধু অরবিন্দ ভাই আর আমাদের মধ্যে নেই। তাঁর আত্মার শান্তি হোক"। সীতার চরিত্রে অভিনেতা দীপিকা চিখলিয়া বলেন, "প্রয়াত অরবিন্দ ত্রিবেদি খুবই উঁচুদরের মানুষ ছিলেন।"
প্রয়াত অভিনেতার ভাইপো কৌস্তুভ ত্রিবেদি জানিয়েছেন, অরবিন্দ দীর্ঘদিন বয়সজনিত নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি হৃদরোগে মারা যান। কৌস্তুভের কথায়, "কিছুদিন তিনি ভালই ছিলেন। কিন্তু হৃদরোগের পরে তাঁর মাল্টি অর্গান ফেলিওর হয়।" একটি সূত্রে খবর, বুধবার সকালে অরবিন্দ ত্রিবেদির শেষকৃত্য হবে।
চলতি বছরের শুরুতে গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল, অরবিন্দ ত্রিবেদি মারা গিয়েছেন। তখন সুনীল লাহিড়ি টুইট করে বলেন, ঈশ্বরের ইচ্ছায় অরবিন্দজি ভালই আছেন। প্রার্থনা করি, তিনি যেন সুস্থ থাকেন।
গতবছর দেশ জোড়া লকডাউনের সময় দূরদর্শনে ফের রামানন্দ সাগর পরিচালিত রামায়ন সিরিয়াল দেখানো হয়। তখন দিনে দু'বার ওই ধারাবাহিক দেখানো হত। একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, অরবিন্দ ত্রিবেদি নিজে টিভিতে সীতাহরণের দৃশ্য দেখছেন। ওই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়।
১৯৮৭ সাল থেকে টিভিতে রামায়ণ ধারাবাহিক দেখানো শুরু হয়। মহাকাব্যের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলিতে অভিনয় করেছিলেন অরুণ গোভিল, দীপিকা চিখলিয়া ও সুনীল লাহিড়ি। সাধারণ মানুষও তাঁদের রাম, সীতা ও লক্ষ্মণ বলে চিনত।
রামায়ণ বাদে আরও ৩০০ গুজরাটি ও হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছেন অরবিন্দ ত্রিবেদি। 'বিক্রম আউর বেতাল' ধারাবাহিকেও তিনি অভিনয় করেন।
১৯৩৮ সালের ৮ নভেম্বর মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে তাঁর জন্ম হয়। তৎকালীন বম্বের ভবনস কলেজে তিনি ইন্টারমিডিয়েট পড়েছিলেন। ১৯৬৬ সালে তাঁর বিবাহ হয়। অরবিন্দের তিন মেয়ে আছেন। তাঁর ভাই উপেন্দ্র ত্রিবেদিও গুজরাটি সিনেমার নামি অভিনেতা।
ন'য়ের দশকের শুরুতে অরবিন্দ ত্রিবেদি বিজেপিতে যোগ দেন। ১৯৯১ সালে গুজরাতের শবরকন্থা লোকসভা কেন্দ্র থেকে তিনি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০২ সালে তিনি সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশনের কার্যনির্বাহী সভাপতি হন। ২০০৩ সালের অক্টোবর অবধি তিনি ওই পদে ছিলেন। গুজরাটি ফিল্মে অভিনয়ের জন্য তিনি মোট সাতটি পুরস্কার পেয়েছেন।