Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

ভোট ঘোষণার পর তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত 'তাজা নেতা' আরাবুলের, নতুন ঠিকানা নিয়ে জল্পনা

রবিবার নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দিন ঘোষণা করেছে। আগামী ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোট গ্রহণ হবে। সেই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আরাবুলের দলত্যাগের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু করেছে।

ভোট ঘোষণার পর তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত 'তাজা নেতা' আরাবুলের, নতুন ঠিকানা নিয়ে জল্পনা

আরাবুল ইসলাম

সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: 16 March 2026 15:06

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণার (West Bengal Assembly Elections Dates 2026) ঠিক এক দিনের মধ্যেই বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিলেন ভাঙড়ের পরিচিত নেতা আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam)। তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। রবিবার নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দিন (West Bengal Polls 2026) ঘোষণা করেছে। আগামী ২৩ এপ্রিল ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোট গ্রহণ হবে। সেই ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আরাবুলের দলত্যাগের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু করেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লার সঙ্গে আরাবুল ইসলামের সম্পর্ক নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে টানাপড়েন চলছিল। দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে একাধিকবার তাঁকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দলের বিভিন্ন কর্মসূচি থেকেও তাঁকে দূরে থাকতে দেখা গিয়েছে। ফলে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁর এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

 

তৃণমূল ছাড়ার পর আরাবুল ইসলাম কোন দলে যোগ দেবেন, তা নিয়ে জল্পনা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বাধীন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে তিনি হাত মেলাতে পারেন। আবার অন্য একটি অংশের দাবি, তিনি নওশাদ সিদ্দিকির নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টে যোগ দিতে পারেন। তবে আরাবুলের কথায় ইঙ্গিত মিলেছে তিনি আইএসএফ-এর পথেই রয়েছেন।

সংবাদমাধ্যমে আরাবুল ইসলাম জানান, মনের দুঃখে তৃণমূল ছাড়ছেন। তিনি বলেন, ''তৃণমূল আরাবুল ইসলামকে চিনতে পারল না। আমি পাঁচ বার কেস খেয়েছি, তিন বার সাসপেন্ড হয়েছি। কিন্তু কীভাবে দল করেছি, কোনও ভাবে কেউ বুঝতে পারল না। তাই মনের দুঃখে তৃণমূল থেকে ইস্তফা দিচ্ছি।'' তিনি মনে করান নন্দীগ্রাম-সিঙ্গুরের কথা। বলেন, ''মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিলাম। সিঙ্গুরে রোজ ২-৩ গাড়ি লোক নিয়ে যেতাম। নন্দীগ্রামে প্রায় ২১ বার গেছি পার্থদার (পার্থ চট্টোপাধ্যায়) সঙ্গে। দু’বার গুলি চলে পার্থদার গাড়ির উপরে। আমরা কোনও ভাবে মাথা নিচু করে প্রাণে বাঁচি। সেই ভাবে দলটা করেছি। আজ তাঁরাই চিনল না।'' রাজনৈতিক মহলে আবার জোর জল্পনা শুরু হয়েছে যে ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্র থেকেই তিনি প্রার্থী হতে পারেন এবং সেক্ষেত্রে তাঁর মুখোমুখি হতে পারেন শওকত মোল্লা।

আরাবুল ইসলামকে ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। ২০২৪ সালে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের এক কর্মীকে খুনের অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ। প্রায় সাত মাস কারাবন্দি থাকার পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর থেকেই তৃণমূলের আরেক নেতা শওকত মোল্লার সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। এমনকি আরাবুলের উপর হামলার অভিযোগও ওঠে শওকতের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন আরাবুল।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই তাঁকে দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল।

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভাঙড় কেন্দ্রটি তৃণমূলের হাতছাড়া হয়। সেখানে জয়ী হন ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের নেতা নওশাদ সিদ্দিকি। এবার সেই আসন পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই শাসকদল অভিজ্ঞ প্রার্থী খুঁজছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে আরাবুল ইসলামের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর।


```