আরাবুলও যে ঘোরতর শওকত বিরোধী তার প্রমাণ আগেও মিলেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, 'শত্রুর শত্রু এখন বন্ধু' হয়েছেন।

শওকত মোল্লা, আরাবুল ইসলাম, কাইজার আহমেদ
শেষ আপডেট: 1 November 2025 19:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা ভোটের (2026 WB Polls) আর বেশি দেরি নেই। তার আগেই ভাঙড়ে (Bhangar) তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব আবারও সামনে। এ বার একই মঞ্চে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম (Arabul Islam) ও কাইজার আহমেদ (Kaiser Ahmed)! তাঁরা সরাসরি আক্রমণ শানালেন দলেরই আরেক প্রভাবশালী নেতা শওকত মোল্লাকে।
শনিবার যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে আরাবুল ও কাইজারের অভিযোগ, এলাকায় খুন, রাহাজানি, তোলাবাজির রাজনীতি চালাচ্ছেন শওকত। তাঁদের কথায়, ‘‘ভাঙড়ে অশান্তির মূল শিকড় শওকত মোল্লা। দল ও এলাকার স্বার্থে তাঁকে সরাতেই হবে।’’ কাইজার সাংবাদিকদের সামনে নতুন একটি ভিডিও দেখান, যেখানে তাঁর অফিসে হামলার ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে বলে দাবি। ভিডিও সামনে এনে তিনি বলেন, ‘‘এই অত্যাচার আর চলতে পারে না।’’
এ ঘটনার পর তৃণমূলের (TMC) অন্দরেই তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। শওকত মোল্লার তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। প্রসঙ্গত, দু-দিন আগেই তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদের বাড়ির সামনে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, তৃণমূলেরই অপর গোষ্ঠীর নেতা (TMC Conflict ) বাহারুল ইসলাম ও সাবিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল কর্মী-সমর্থক এসে কাইজারকে লক্ষ্য করে অশালীন গালিগালাজ ও খুনের হুমকি দেয়। এই ঘটনায় সরাসরি শওকত মোল্লার দিকেই আঙুল তুলেছিলেন কাইজার।
আরাবুলও যে ঘোরতর শওকত বিরোধী তার প্রমাণ আগেও মিলেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, 'শত্রুর শত্রু এখন বন্ধু' হয়েছেন। তাই একযোগে আরাবুল-কাইজারের নিশানায় পড়েছেন শওকত। তাঁকে নিয়ে দ্য ওয়ালের সাক্ষাৎকারেও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন খোদ কাইজার আহমেদ।
সাক্ষাৎকারে তিনি শওকতের উদ্দেশে কার্যত হুঁশিয়ারি দেন। বলেন, ''হয় ২৬-এ ট্রিটমেন্ট করতে হবে, নাহলে ২৫-এই। উনি ঔদ্ধত্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছেন। ওঁর জন্যই ভাঙড় থেকে সম্পদ লুট হয়ে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছে।'' কাইজারের সাফ কথা, এঁরা আসল গদ্দার, এঁরা হারিয়েছিল দলকে। যদি তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না হয় তাহলে ২৬-এর ভোটে ভাঙড়ে তৃণমূলের কোনও জায়গা থাকবে না।
এদিকে, ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা ত্বহা সিদ্দিকীও শওকতের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। তাঁর গ্রেফতারির দাবি তুলে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তিনি। ত্বহার কথায় - বিধায়ক হয়ে হিটলার হয়ে গেছেন শওকত। উচিত তাঁকে গ্রেফতার করে ধোলাই দেওয়া।
এই পরিপ্রেক্ষিতে স্বাভাবিকভাবে একটাই প্রশ্ন উঠেছে, ২০২৬ সালের ভোটের মুখে কি ত্রিমুখী শক্তির সামনে পড়লেন শওকত মোল্লা?