ভাইয়ের সঙ্গে সামান্য ঝগড়ার পর অভিমানে মায়ের সামনেই মোবাইল টাওয়ার থেকে ঝাঁপ দিল ১২ বছরের অপূর্ব হাজরা।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 October 2025 12:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সামান্য রাগে কী না হতে পারে। ক্ষণিকের আক্রোশ, জেদে কান্দিতে শেষ হয়ে গেল ছোট্ট প্রাণ। ভাইফোঁটার দিন ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া মোবাইল টাওয়ারে উঠে আত্মহত্যা করল এক কিশোর। মায়ের শত অনুরোধ সত্ত্বেও কিছুই হল না। তাঁর সামনেই মাটিতে পড়ে মৃত্যু হল।
মৃত বালকের নাম অপূর্ব হাজরা (১২)। সোমবার সকালে ভাইয়ের সঙ্গে সামান্য ঝগড়া হয় তার। সেই রাগে ও অভিমানে মা সাগরিকা হাজরার উপরও ক্ষোভ প্রকাশ করে সে এবং বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। কেউ ভাবতেও পারেননি, এই অভিমানই শেষ পর্যন্ত তাকে এমন ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দেবে।
বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর অপূর্ব পৌঁছে যায় গ্রামের মোবাইল টাওয়ারের কাছে। উঠে পড়ে টাওয়ারের চূড়ায়। কিছুক্ষণ পর মাকে ফোন করে বলে, 'আমি আর বাঁচব না, টাওয়ার থেকে ঝাঁপ দেব।' মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় তাঁর কণ্ঠ। ভয় আর কান্নায় ভেঙে পড়েন সাগরিকা হাজরা। ছুটে যান জীবন্তি গ্রামের টাওয়ারের কাছে। চোখের সামনে দেখেন তাঁর আদরের ছেলে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকশো ফুট উঁচুতে। মায়ের কাকুতি-মিনতি, কান্না, অনুরোধ, সবই ব্যর্থ হয়।
স্থানীয়দের একাংশ বলেন, 'মোবাইল টাওয়ার এলাকায় কোনও সুরক্ষা বলয় নেই। বহুবার অনুরোধ করা হলেও টাওয়ার ঘিরে প্রাচীর নির্মাণ করা হয়নি। আজ তারই মাশুল দিতে হল এক নিরীহ পরিবারকে।'
দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ হঠাৎই অপূর্ব টাওয়ারের চূড়া থেকে লাফ দেয় মায়ের সামনেই। নিমেষে সব শেষ। সবাই তখন আফশোস করছে, যদি কিছু করা যেত আর ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে মোবাইল টাওয়ার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। কারণ তাঁরা নাকি আগেই ওই টাওয়ারের চারপাশ পাঁচিল দিয়ে ঘেরার পরামর্শ দিয়েছিলেন কিন্তু কোনও পদক্ষেপই করা হয়নি।