আত্মহত্যার আগে তিনি একটি চিঠি রেখে গিয়েছেন, যেখানে স্পষ্টভাবে লিখেছেন, ২০১৬ সাল থেকে জলবাহকের কাজ করলেও প্রায় আড়াই বছর ধরে তাঁর বেতন বন্ধ।

মৃত সরকারি কর্মী
শেষ আপডেট: 18 October 2025 13:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকের (Karnataka) চামরাজনগর জেলায় বেতন না পেয়ে আত্মহত্যা (Suicide) করলেন এক সরকারী কর্মী (Govt Employee)। অভিযোগ, গত ২৭ মাস ধরে কোনও বেতন পাননি তিনি। মানসিক হয়রানিতেও জর্জরিত ছিলেন। ঘটনাস্থল হোঙ্গানুরু গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের সামনেই।
মৃত ব্যক্তির নাম চিকুসা নায়কা। আত্মহত্যার আগে তিনি একটি চিঠি রেখে গিয়েছেন, যেখানে স্পষ্টভাবে লিখেছেন, ২০১৬ সাল থেকে জলবাহকের কাজ করলেও প্রায় আড়াই বছর ধরে তাঁর বেতন বন্ধ। একাধিকবার আবেদন করা সত্ত্বেও পঞ্চায়েত দফতরের আধিকারিকরা কোনও ব্যবস্থা নেননি।
চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট অফিসার (PDO) রামে গৌড়া এবং পঞ্চায়েত সভাপতির স্বামী মোহনকুমার তাঁকে লাগাতার মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। চিকুসা লিখেছেন, “ছুটি চাইলে বলত অন্য কাউকে কাজের জন্য ঠিক করে যেতে। সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অফিসে থাকতে বাধ্য করত।”
চিকুসার মৃত্যুর পর পুলিশ ওই পিডিও, পঞ্চায়েত সভাপতি এবং তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি ও উপজাতি (নৃশংসতা প্রতিরোধ) আইনে মামলা করেছে। জেলা পরিষদের সিইও ঘটনাটির পরেই পিডিও রমে গৌড়াকে সাময়িক বরখাস্ত করেছেন, প্রশাসনিক অবহেলার অভিযোগে।
এই ঘটনার পরেই মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার (Siddaramaiah) নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। দলের রাজ্য নেতৃত্বের অভিযোগ, “মাত্র দুই দিন আগেই কালাবুরগিতে এক গ্রন্থাগারিক বেতন না পেয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। তার মধ্যেই আবার এক সরকারি কর্মীকে জীবন দিতে হল। এটা কংগ্রেস সরকারের ‘আত্মহত্যার অভিশাপ’।’’
বিজেপি মুখপাত্রের তোপ, “মাসে মাত্র পাঁচ হাজার টাকা মজুরি পেতেন ওই কর্মী। দু' বছর ধরে তাঁকে বেতন না দিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিল সরকার। মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রী কি মানবিকতা হারিয়ে ফেলেছেন? আরও কত সরকারি কর্মচারীকে মরতে হবে এই অব্যবস্থার জন্য?”