একাধিক ব্যবহারকারী পাঠানের পোস্টের নীচে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “আপনি যে স্থাপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, সেটি এক সময়ের আদিনাথ মন্দির— যা শিবকে উৎসর্গ করে নির্মিত হয়েছিল।

বিতর্কিত মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে ইউসুফ
শেষ আপডেট: 18 October 2025 12:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আদিনা মসজিদে (Adina Mosque) দাঁড়িয়ে তোলা কয়েকটি ছবি পোস্ট করেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ইউসুফ পাঠান (Yusuf Pathan)। মালদহ (Malda) সফরে গিয়ে তিনি ওই ঐতিহাসিক স্থাপনার ছবি এক্স-এ পোস্ট করেন। ক্যাপশনে লেখেন, “আদিনা মসজিদ ১৪শ শতকে ইলিয়াস শাহি বংশের দ্বিতীয় শাসক সুলতান সিকন্দর শাহ নির্মাণ করেছিলেন। তখন এটি ছিল উপমহাদেশের বৃহত্তম মসজিদ।”
The Adina Mosque in Malda, West Bengal, is a historic mosque built in the 14th century by Sultan Sikandar Shah, the second ruler of the Ilyas Shahi dynasty. Constructed in 1373-1375 CE, it was the largest mosque in the Indian subcontinent during its time, showcasing the region's… pic.twitter.com/EI0pBiQ9Og
— Yusuf Pathan (@iamyusufpathan) October 16, 2025
কিন্তু, তাঁর এই পোস্ট ঘিরেই শুরু হয় নতুন বিতর্ক। অনেকেই দাবি করেন, যাকে আজ আদিনা মসজিদ বলা হয়, সেটি আসলে এক সময় ছিল ‘আদিনাথ মন্দির’ (Adinath Temple), যা ধ্বংস করে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয়।
একাধিক ব্যবহারকারী পাঠানের পোস্টের নীচে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “আপনি যে স্থাপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন, সেটি এক সময়ের আদিনাথ মন্দির— যা শিবকে উৎসর্গ করে নির্মিত হয়েছিল।” কেউ কেউ মসজিদের দেওয়ালে গণেশ ও অন্যান্য হিন্দু দেবতার ভাস্কর্যের ছবি পোস্ট করে বলেন, “ইতিহাসের সাক্ষী আদিনাথ মন্দির এখন আদিনা মসজিদ।”
আরও একজন মন্তব্য করেন, “আপনারা কি নিজেরা কিছু নির্মাণ করেছেন, না কি অন্যদের ধর্মস্থান ভেঙেই দাবি করেছেন নিজেদের বলে?”
পাণ্ডুয়া শহরের আদিনা মসজিদ তৈরি হয়েছিল ১৩৭৩-৭৫ সালের মধ্যে। ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে, সুলতান সিকন্দর শাহ বিজয়ের স্মারক হিসেবেই মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। তবে প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ বলছে, মসজিদ তৈরির সময় পাল–সেন যুগের মন্দিরগুলির ভাঙা পাথর ও খোদাই করা স্তম্ভ ব্যবহার করা হয়েছিল।
দেওয়াল ও খিলানের অলঙ্করণে দেখা যায় ফুল, ঘণ্টা, মালা, মুখমণ্ডল ও কৈলাস প্রতীকের মতো মোটিফ। যেগুলি মূলত হিন্দু স্থাপত্যে ব্যবহৃত হত। একাধিক গবেষকই মনে করেন, এই মসজিদের মূল কাঠামোটি এক সময় শিবের মন্দির ছিল, যেখানে দেবতার রূপ ছিল ‘আদিনাথ’ অর্থাৎ ‘প্রথম দেব’।
এই ইস্যু নতুন নয়। গত বছর বিজেপি-ঘনিষ্ঠ আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে আদিনা মসজিদে পুজো শুরু করার অনুমতি চেয়েছিলেন। তাঁর দাবি, “সিকন্দর শাহ হিন্দু মন্দির ভেঙে মসজিদ তৈরি করেছিলেন। এখন সময় এসেছে ইতিহাসের সেই ভুল ঠিক করার।”
২০২৪ সালে হিন্দু সংগঠনের একাংশ ওই স্থানে গিয়ে পুজো করতেও চেষ্টা করে। তরুণ পুরোহিত হিরণ্ময় গোস্বামী ও তাঁর অনুসারীরা মসজিদের ভিতরে শিবলিঙ্গ দেখতে পান বলে দাবি করেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ওই পুজো বন্ধ করা হয়।
বর্তমানে আদিনা মসজিদ ভারতের প্রত্নতত্ত্ব দফতরের (ASI) অধীন সংরক্ষিত স্থাপনা। ফলে নতুন করে কোনও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড চালানো আইনত নিষিদ্ধ। তবুও রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্ক থামছে না। বাবরি মসজিদ, মথুরার শাহী ইদগাহ কিংবা কাশীর জ্ঞানবাপীর মতোই মালদহের আদিনা মসজিদ এখন নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।