
শেষ আপডেট: 20 February 2019 13:49
পরিস্থিতি সামাল দিতে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশ বাহিনী৷ হাজির হন ডিসি সেন্ট্রাল নিজেও। তার পরে ওই হামলাকারী যুবকদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় ঘটনাস্থল থেকে৷ পরে আটক করা হয় দু'জনকে৷
এই ঘটনার পিছনে আরএসএস ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এপিডিআর কর্মী রঞ্জিত শূর৷ তিনি বলেন, "দেশে যে হিংসা ও যুদ্ধের আবহ তৈরি হয়েছে, তার বিরুদ্ধেই এই মিছিল ছিল৷ কিন্তু আরএসএস ও ভিএইচপির দুষ্কৃতীরা মিছিলের উপর হামলা করে৷ আমাদের কয়েক জন সদস্য জখমও হয়েছেন।"
একই অভিযোগ করেছেন মানবাধিকার কর্মী সুজাত ভদ্র৷ আরএসএস ও ভিএইচপি ছাড়াও তিনি কাঠগড়ায় তোলেন কলকাতা পুলিশকে৷ তিনি জানান, এই মিছিলের আগে এন্টালি থানা, লালবাজারকে জানানো হয়েছিল৷ কিন্তু আচমকা হামলার ঘটনার সময়ে পুলিশ কোনও রকম সাহায্য করেনি৷
অন্য দিকে এই মিছিলের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ তিনি বলেন, ‘‘দেশে যখন যুদ্ধ লাগেনি, তখন যুদ্ধবিরোধী মিছিল কেন? কেন ওঁদের মনে হচ্ছে যুদ্ধ হবে?’’
মিছিলে হামলার তীব্র নিন্দা করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যারা হামলা ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, "ওরা এমন করছে যেন ওরাই একমাত্র দেশভক্ত। বাকিদের দেশ ভক্তি নেই।"
হামলা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "আমি সবাইকে বলব কোনও গুজবে কান দেবেন না। একটা সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল এই কাজ করছে। সাংবাদিক থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কাউকেই ছাড়ছে না। ওই রাজনৈতিক দলের নাম বলতে আমার লজ্জা করছে। আমি এই ধরনের কাজের তীব্র নিন্দা করছি।"
মুখ্যমন্ত্রী সেই সঙ্গে আশ্বাস দেন, "কলকাতায় যে সমস্ত কাশ্মীরের মানুষ আছেন, তাঁদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। এখানে একটা ঘটনা ঘটেছে। আমরা তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা ইউনাইটেড ইন্ডিয়ার পক্ষে।"
একই সঙ্গে, পুলওয়ামা হামলায় নিহত এ রাজ্যের দুই সিআরপিএফ জওয়ান পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। জানান, পরিবারের কেউ চাকরি করতে চাইলে রাজ্য সরকার তাদের চাকরিও দেবে।