অনুব্রতকে গ্রেফতারের দাবিতে সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। এমনকী আইসিকে গালমন্দ করার অডিও যেভাবে প্রকাশ্যে এসে পড়েছে তাতে গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ পুলিশের একাংশও।
.jpeg.webp)
অনুব্রত মণ্ডল।
শেষ আপডেট: 2 June 2025 08:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে কদর্য ও নোংরা গালমন্দ করার অভিযোগ উঠেছে বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে (Anubrata Mondal)। ইতিমধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর (জামিন অযোগ্য ধারাও রয়েছে ) রুজু করেছে পুলিশ। শনিবারের পর রবিবারও পুলিশের তলব এড়িয়ে গিয়েছেন কেষ্ট।
সূত্রের খবর, আগাম জামিনের আর্জি জানিয়ে সোমবার আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন 'বীরভূমের বাঘ'। অন্যদিকে অনুব্রতকে গ্রেফতারের দাবিতে সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। এমনকী আইসিকে গালমন্দ করার অডিও যেভাবে প্রকাশ্যে এসে পড়েছে তাতে গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ পুলিশের একাংশও। এমন পরিস্থিতিতে হাজিরা এড়ানোয় অনুব্রতর বিরুদ্ধে পুলিশ কঠোর কোনও পদক্ষেপ করবে কিনা তা নিয়েও সব মহলে কৌতূহল তুঙ্গে।
যদিও পুলিশি হাজিরা এড়ানো প্রসঙ্গে রবিবার অনুব্রতর আইনজীবী দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেল গুরুতর অসুস্থ। তিনি বলেন, 'তদন্তকারী অফিসারদের জানিয়েছি যে অনুব্রত মণ্ডল অসুস্থ। সরকারি হাসপাতাল থেকে নেওয়া মেডিক্যাল সার্টিফিকেট জমা দেওয়া হয়েছে। একাধিক শারীরিক সমস্যা রয়েছে তাঁর। নানা রোগের ওষুধও খান।' ভাইরাল-অডিও ক্লিপকাণ্ডটিকে সম্পূর্ণভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। 'কেষ্টদা'কে ফাঁসানোর চক্রান্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন আইনজীবী। চিকিৎসক জানিয়েছেন, অন্তত পাঁচদিন বিশ্রাম প্রয়োজন।
অন্যদিকে পুলিশ সূত্রের খবর, আরও একবার অনুব্রতকে নোটিস দেওয়া হবে। পর পর তিন বার হাজিরা এড়ালে সেক্ষেত্রে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, বিপাকে পড়লে বরাবরই এভাবে অসুস্থতার দোহাই দিয়ে বাঁচানোর চেষ্টা করেন কেষ্ট। এবং এক্ষেত্রে পুলিশের একাংশই অনুব্রতকে সহযোগিতা করছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। বিরোধীদের কথায়, অনুব্রত যে নোংরা ভাষায় আইসিকে গালাগালি এবং হুমকি দিয়েছেন সেটা সাধারণ কোনও মানুষ করলে তাঁকে হাজিরা দেওয়ার জন্য পুলিশ কি তিন তিনবার সুযোগ দিত নাকি তৎক্ষণাৎ তুলে এনে গ্রেফতার করত?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, অনুব্রত এই ধরনের কথা এই প্রথম বলছেন, তা নয়। ফলে এক্ষেত্রে পুলিশ কী পদক্ষেপ করে, আদৌ কোনও পদক্ষেপ করে কিনা সেটাই দেখার।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অনুব্রত মণ্ডল বোলপুর থানার আইসি-কে যে কদর্য ভাষায় গালমন্দ করেছেন, তাতে পুলিশের সম্ভ্রম ও মর্যাদাহানি হয়েছে। তা ছাড়া থানার আইসিকে পুলিশ কোয়ার্টার থেকে টেনে বের করে হেনস্থা করার হুমকিও দিয়ে রেখেছেন কেষ্ট। সেই সঙ্গে ওই আইসি-র মা ও স্ত্রীর মর্যাদাহানি করেছেন। এর পর মানুষ দেখতে চাইছে পুলিশ তাদের সম্ভ্রম ও মর্যাদা রাখতে কী ব্যবস্থা নেয়। অনুব্রতর আদৌ শাস্তি হয় কিনা।
কারণ এভাবে পুলিশ যদি সম্ভ্রম ও মর্যাদা হারিয়ে ফেলে, তাহলে পুলিশের কর্তৃত্ব নিয়েই আগামী দিনে প্রশ্ন উঠতে পারে। আগামী দিনে অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের নেতা এভাবে গালমন্দ করে পরদিন ক্ষমা চেয়ে পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। পুলিশের প্রতি আস্থা ও বাহিনীর কর্তৃত্বের প্রশ্নে তা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষত তৈরি করতে পারে। সুতরাং পুলিশেরই এখন মানুষকে বোঝানোর দায় রয়েছে যে তাদের কর্তৃত্ব লঘু হয়নি। আগামী দিনে আর কেউ যেন কোনও পুলিশ ফোন করে এরকম গালমন্দ করার সাহস না পান, সেই দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে তাদেরই।