বৃহস্পতিবার বিচারপতি জেকে মহেশ্বরী ও বিচারপতি বিজয় বিশ্নোইয়ের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, হাইকোর্টের আদেশে কোনও হস্তক্ষেপ নয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে ওই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে রাজ্যকে।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 11 December 2025 12:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে সুপ্রিম কোর্টে বড় স্বস্তি পেলেন জুনিয়র ডাক্তার অনিকেত মাহাতো (Aniket Mahato)। তাঁর পোস্টিং মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) নির্দেশেই সিলমোহর দিল শীর্ষ আদালত (Supreme Court)।
স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, রায়গঞ্জ নয়, অনিকেতের কর্মস্থল হবে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজই (workplace will be RG Kar Medical College, not Raiganj)। বৃহস্পতিবার বিচারপতি জেকে মহেশ্বরী ও বিচারপতি বিজয় বিশ্নোইয়ের বেঞ্চ জানিয়ে দিয়েছে, হাইকোর্টের আদেশে কোনও হস্তক্ষেপ নয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে ওই নির্দেশ কার্যকর করতে হবে রাজ্যকে।
গত সেপ্টেম্বরেই বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর সিঙ্গল বেঞ্চ জানিয়েছিল, অনিকেতের পোস্টিংয়ে রাজ্য ‘স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর’ মানেনি। সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারা, সমানাধিকারের অধিকার,লঙ্ঘিত হয়েছে। তাই অনিকেতকে রায়গঞ্জ নয়, আরজি করে অ্যানাস্থেশিয়া বিভাগেই পোস্টিং দিতে হবে।
ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চেও যায় সরকার। কিন্তু বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর বেঞ্চও সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ বহাল রাখে। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে স্পেশ্যাল লিভ পিটিশন দাখিল করে রাজ্য। সেই শুনানিতেই বড় ধাক্কা, এসএলপি খারিজ হয়ে কার্যত শেষমেশ অনিকেতের পক্ষেই রায় দাঁড়াল।
আরজি করের চিকিৎসক তরুণীর ধর্ষণ-খুনের পর যে গণআন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছিল, সেখানে সামনের সারিতে দেখা গিয়েছে অনিকেতকে। ঠিক তার পরই জানা যায়, আন্দোলনের তিন মুখ—অনিকেত মাহাতো, দেবাশিস হালদার ও আসফাকুল্লা নাইয়াকে—পোস্টিং দেওয়া হয়েছে যথাক্রমে রায়গঞ্জ, মালদহের গাজোল ও হুগলির আরামবাগে। শুরু হয় তীব্র বিতর্ক।
তিন জনই হাইকোর্টে প্রশ্ন তোলেন—যদি মেধাতালিকা মেনে কাউন্সেলিংয়ে পছন্দমতো পোস্টিং না-ই মিলবে, তাহলে সেই কাউন্সেলিংয়েরই বা মানে কী? কেবল তাঁদের তিন জনকেই ‘বেছে বেছে’ দূরে পাঠানোকে তাঁরা বলেছিলেন ‘‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’’। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের শেষে শীর্ষ আদালতের রায় সেই অভিযোগকেই যেন পরোক্ষে মান্যতা দিল।
এখন দেখার, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে অনিকেতের আরজি করে পোস্টিংয়ের ব্যবস্থা রাজ্য করে কিনা।