নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে শাহ এও বলেন, তাঁর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি হয়েছে, এখনও চলছে। বাংলা তো বটেই, সারা দেশে যে পরিবারতন্ত্র চলছে তা থামাতে হবে - তাই বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা প্রয়োজন।

অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 2 March 2026 16:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Elections 2026) দামামা বাজিয়ে রাজ্যজুড়ে 'পরিবর্তন যাত্রা' শুরু করেছে বিজেপি (BJP Paribartan Yatra)। সোমবার রায়দিঘিতে এসে জনসভা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। আর সেই সভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট না দেওয়ার সম্পূর্ণ অন্য যুক্তি খাড়া করেছেন তিনি। এমন মন্তব্য করেছেন শাহ যা তৃণমূলের (TMC) অন্দরেই জল্পনা বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
'দিদির নয়, ভাইপোর শাসন হবে!' রায়দিঘির সভায় দাঁড়িয়ে অমিত শাহর (Amit Shah) এই মন্তব্য এখন রাজ্য-রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। দুর্নীতির প্রসঙ্গ থেকে নারী নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ থেকে এসআইআর (West Bengal SIR) ইস্যু - বাংলার শাসক দলকে আক্রমণ করতে কোনও কিছু বাকি রাখেননি অমিত শাহ। তবে এতকিছুর মধ্যে সবথেকে বেশি চর্চা শুরু হয়েছে তাঁর 'ভাইপোর শাসন' মন্তব্য নিয়েই।
রাজ্যের আমজনতার উদ্দেশে অমিত শাহর বার্তা, ''এবার তৃণমূল কংগ্রেসকে (TMC) ভোট দিলে বড় ভুল করবেন। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নয়, ভাইপোর (পড়ুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) শাসন হবে!'' শাহের এও দাবি, বাংলার ভাল করা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যই নয়। তিনি আদতে অভিষেককে (Abhisekh Banerjee) মুখ্যমন্ত্রী বানাতে চান। কিন্তু এই পারিবারিক-রাজনীতি বিজেপিতে হয় না বলেই স্পষ্ট করেন তিনি। বলেন, দলের সাধারণ কর্মীও একদিন মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন - এটা একমাত্র বিজেপিতেই সম্ভব।
নাম না করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে শাহ এও বলেন, তাঁর নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গে দুর্নীতি হয়েছে, এখনও চলছে। বাংলা তো বটেই, সারা দেশে যে পরিবারতন্ত্র চলছে তা থামাতে হবে - তাই বিজেপিকে ক্ষমতায় আনা প্রয়োজন।
তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) মুর্শিদাবাদে যে মসজিদ (Humayun Kabir Masjid) তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন তা কড়া সমালোচনা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই ব্যাপারেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তুলোধনা করেন অমিত শাহ। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, পরিকল্পনা করে রাজ্যে মসজিদ বানানোর ছক করেছেন মমতাই। তিনি শুধু হুমায়ুনকে ব্যবহার করছেন।
অমিত শাহের দাবি, একেবার পরিকল্পনাকে হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে বের করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যাতে বাংলায় মসজিদ তৈরি করা যায় কিন্তু রাজ্যের মানুষ তাঁর ওপর রুষ্ঠ না হন। কিন্তু শাহের কটাক্ষ, ''মমতাদি, বাংলার হিন্দু-মুসলমান দু-পক্ষই আপনাকে খুব ভাল করে চিনে গেছে। এবার আর তাঁদের বোকা বানানো যাবে না।''
এই পরিবর্তন যাত্রার মূল উদ্দেশ্য কী, সেটাও ব্যাখ্যা করেন অমিত শাহ। তাঁর স্পষ্ট কথা, মুখ্যমন্ত্রীর পরিবর্তন করা তাঁদের আসল লক্ষ্য নয়, সেটা রাজ্যের জনগণই করবে। তাঁদের লক্ষ্য - দুর্নীতিমুক্ত, অনুপ্রবেশমুক্ত, নারী সুরক্ষায় মোড়া সোনার বাংলা তৈরি করা। ক্ষমতায় এলে সেটাই তাঁরা দ্রুত সম্ভব করবেন।
এই প্রসঙ্গেই সপ্তম বেতন কমিশন নিয়ে বড় দাবি করেন শাহ। রাজ্যের সরকারি কর্মীদের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, বিজেপিকে ক্ষমতায় আনলে ৪৫ দিনের মধ্যেই সপ্তম বেতন কমিশনে বেতন দেওয়ার কাজ শুরু করে দেওয়া হবে। শাহ মনে করান, দেশজুড়ে সরকারি কর্মীরা সপ্তম বেতন কমিশনের ভিত্তিতে বেতন পান। কিছুদিনের মধ্যে অষ্টম বেতন কমিশনও চলে আসবে। কিন্তু বাংলার সরকারি কর্মচারীদের বঞ্চিত করে রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই পরিস্থিতিরও পরিবর্তন হবে।