কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তৃতা খানিকটা আলাদা মোড় নিল। সেখানে ঢুকে পড়ল ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram), বাম শাসনের (CPIM) তুলনা এবং রাজ্যের সামাজিক ঐক্য ভাঙার অভিযোগ।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 31 January 2026 16:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একই দিনে রাজ্যের দুই প্রান্তে দুই কর্মী সম্মেলন। কিন্তু সুর এক নয়। শনিবার ব্যারাকপুরে অমিত শাহের (Amit Shah) ভাষণ ছিল চেনা রাজনৈতিক ছকে বাঁধা— তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি, মহিলাদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডে (Anandapur Fire) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) কাঠগড়ায় তোলাই ছিল মূল উপজীব্য। তবে তার কয়েক ঘণ্টা পর বাগডোগরা হয়ে শিলিগুড়ির এয়ারফোর্স ময়দানে পৌঁছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তৃতা খানিকটা আলাদা মোড় নিল। সেখানে ঢুকে পড়ল ‘বন্দে মাতরম’ (Vande Mataram), বাম শাসনের (CPIM) তুলনা এবং রাজ্যের সামাজিক ঐক্য ভাঙার অভিযোগ।
শিলিগুড়ির (Siliguri) কর্মী সম্মেলন থেকে শাহ দাবি করেন, সংসদে ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে আলোচনার সময় তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এর বিরোধিতা করেছিল। সেই প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আমি প্রথমে বুঝতেই পারছিলাম না, কেন বন্দে মাতরমের বিরোধিতা করা হচ্ছে। পরে তৃণমূলেরই এক সাংসদ আমাকে বললেন, তাঁদের অনুপ্রবেশকারী ভোটব্যাঙ্ক বন্দে মাতরম নিয়ে অসন্তুষ্ট। তাই বিরোধিতা। লজ্জা করুন মমতা— ভোটব্যাঙ্কের জন্য বন্দে মাতরমের বিরোধিতা করছেন।”
মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে আক্রমণের সুর আরও চড়া হয় শাহের কথায়। তিনি বলেন, “মমতাদির যাওয়ার সময় এসে গিয়েছে। আপনার থেকে কমিউনিস্টরাই ভাল ছিল।” তাঁর অভিযোগ, গোর্খা-বাঙালি, আদিবাসী-কুর্মী— বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিভাজন তৈরি করে রাজ্যের সামাজিক ঐক্যকে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে। হুঁশিয়ারি দিয়ে শাহ বলেন, “মমতাদি, আপনার সময় শেষ।”
২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে শিলিগুড়ির সভা থেকেই তৃণমূল সরকারকে “সমূলে উৎখাত করার” ডাক দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শাসকদলের ‘মা, মাটি, মানুষ’ স্লোগানকেও কটাক্ষ করেন তিনি। শাহের দাবি, রাজ্যে মহিলারা আজ নিজেদের সুরক্ষিত মনে করেন না।
বিজেপির শক্তি প্রদর্শন করে শাহ বলেন, “আজ গোটা দেশে বিজেপি এবং এনডিএ-র ২১টি সরকার রয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের গুন্ডারা আমাদের ৬০ জন কর্মীকে খুন করেছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিজেপি কর্মীরা কি তা মেনে নেবে? উত্তরবঙ্গের কর্মীরা কি চুপ করে থাকবে? তাঁর মন্তব্য, ২১টি সরকার গঠনের পরেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী খুশি নন। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের পরেই তাঁর মুখে হাসি ফুটবে বলে জানিয়ে দেন শাহ।
গরু পাচার থেকে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি— একাধিক মামলায় তৃণমূল নেতাদের নাম জড়িয়েছে বলে ফের অভিযোগ তোলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। শিলিগুড়ির সভা থেকে নাম না করে ২৩ জন অভিযুক্ত নেতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আপনি যদি দুর্নীতিকে সমর্থন না করেন, তা হলে এঁদের কাউকে ভোটের টিকিট দেবেন না। তা হলেই বুঝব আপনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে।” সঙ্গে তাঁর কটাক্ষ, “কিন্তু উনি টিকিট দেবেনই। না দিলে ওরা ভাইপোর নাম বলে দেবে।”
ব্যারাকপুর থেকে শিলিগুড়ি— এক দিনে দুই সভা, দুই ভিন্ন সুর। তবে নিশানা একটাই। ২০২৬-এর আগে রাজ্যের রাজনীতির মেরুকরণ আরও তীব্র করা। সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট করে দিলেন অমিত শাহ।