কলকাতার সায়েন্স সিটিতে আয়োজিত এই কর্মী সম্মেলনে মহানগরের চারটি সাংগঠনিক জেলা - কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, কলকাতা উত্তর শহরতলি (দমদম লোকসভা এলাকার অন্তর্গত বিধানসভাগুলি) ও যাদবপুর - এই চার এলাকার কর্মী ও নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। এই চার জেলায় মোট ২৮টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। অমিত শাহ এ দিনের বৈঠক থেকেই ২০টি আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেন।

অমিত শাহ
শেষ আপডেট: 31 December 2025 16:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য সফরে (West Bengal Tour) এসে ফের একবার ‘২০০ আসন’-এর লক্ষ্য সামনে রেখে বিজেপি কর্মীদের (BJP Workers) মাঠে নামার বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। কলকাতা জোনের কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিজেপি (BJP) থামার নয়।
মঞ্চ থেকে তাঁর বক্তব্য, “আমরা যদি ৩ আসন থেকে ৭৭ আসনে পৌঁছতে পারি, তাহলে ৭৭ থেকে ২০০ আসনে (200 Seats) পৌঁছনো অসম্ভব কেন হবে?” এই বলে তিনি দলের কর্মী-সমর্থক সহ সব স্তরের নেতাদের উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করেন।
কলকাতার সায়েন্স সিটিতে (Science City) আয়োজিত এই কর্মী সম্মেলনে মহানগরের চারটি সাংগঠনিক জেলা - কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, কলকাতা উত্তর শহরতলি (দমদম লোকসভা এলাকার অন্তর্গত বিধানসভাগুলি) ও যাদবপুর - এই চার এলাকার কর্মী ও নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। এই চার জেলায় মোট ২৮টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। অমিত শাহ এ দিনের বৈঠক থেকেই ২০টি আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেন।
এর আগে সকালে দলের সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন শাহ। সেখানে বিশেষভাবে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র (Bhawanipore) নিয়ে আলোচনা হয় বলে দলীয় সূত্রে খবর। উল্লেখযোগ্য ভাবে, সায়েন্স সিটির কর্মী সম্মেলনে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত একাধিক প্রাক্তন বিধায়ককেও ডাকা হয়েছিল, যা দলীয় পুনর্গঠনের ইঙ্গিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ভাষণে রাজ্য সরকারকে (TMC Govt) নিশানা করে অমিত শাহ বলেন, “এই রাজ্যে দুটো জিনিস ভয়ঙ্কর - একটা অনুপ্রবেশ, আরেকটা দুর্নীতি।” এই পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতার (Kolkata) নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর দাবি, “কলকাতা আর নিরাপদ নেই। অনুপ্রবেশের দাপট আরও বাড়বে। তখন সাধারণ মানুষই বিপদে পড়বেন। এই অবস্থা থেকে বেরোতে হলে গোড়া থেকে এই সরকারকে উপড়ে ফেলতে হবে।”
কর্মীদের উদ্দেশে সাংগঠনিক নির্দেশও দেন শাহ। এক কর্মীর সঙ্গে আরেক কর্মীর যোগাযোগ বাড়ানোর উপর জোর দিয়ে বলেন, “সবাইকে আরও বেশি সক্রিয় হতে হবে। বাড়ি-বাড়ি গিয়ে সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। সাধারণ মানুষের আরও কাছে পৌঁছতে হবে।” তৃণমূল সরকারের ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে শাহ বলেন, “মা আজ বিপন্ন, মাটিতে অনুপ্রবেশের দাপাদাপি। তাই মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছতে হবে।”
দলকে ভোটের আগে আরও চাঙ্গা করতে শাহ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এও বলেন - কোনও কিছুর সঙ্গে সমঝোতা করলে হবে না। এবার বাংলায় বিজেপিই সরকার গড়বে। যেই প্রার্থী হোক না কেন তাঁকে জেতাতে হবে। সবাই লিখে নিন - আমাদেরই সরকার হবে পশ্চিমবঙ্গে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কলকাতায় নির্দিষ্ট আসনভিত্তিক লক্ষ্য বেঁধে দেওয়ার মাধ্যমে বিজেপি স্পষ্ট করে দিল - ২০২৬ সালের ভোটের আগে সংগঠন ঢেলে সাজানোই এখন দলের প্রধান ফোকাস।