দ্য ওয়াল ব্যুরো : জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তের ওপারে অপেক্ষা করছে প্রায় ৫০০ জঙ্গি। একটা সুযোগ পেলেই তারা ঢুকে পড়বে ভারতে। উৎসবের মরসুমে হামলা চালাবে। গত তিন বছরে এত বেশি সংখ্যক জঙ্গি সীমান্তের ওপারে কখনও জড়ো হয়নি। সেনাবাহিনী সূত্রে জানা গিয়েছে, যত বড়ই হামলা হোক, তার মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যে কোনও সময়, যে কোনও জায়গায় হামলা হলে সেনাবাহিনী তার প্রতিরোধ করতে তৈরি।
সোমবার সকালেই সেনাপ্রধান বিপিন রাওয়াত বলেছেন, বালাকোটের জঙ্গি ঘাঁটি ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার পরে এই শিবিরের ওপরেই বোমা ফেলেছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। সেনাপ্রধানকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ভারত কি আবার বালাকোটে জঙ্গি শিবিরে বোমা ফেলে আসবে? তিনি বলেন, আমরা ফের একই কাজ করব আপনারা ভাবছেন কেন? সেনাবাহিনী এবার অন্য কিছু করবে।
সেনাপ্রধান আরও জানিয়েছেন, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে প্রায় ৫০০ জঙ্গি জড়ো হয়েছে।
সেনাবাহিনী সূত্রে খবর, চারদিন আগে জানা যায়, বালাকোটের শিবিরে ফের জঙ্গিদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। সামনেই আসছে উৎসবের মরসুম। এইসময় যদি জঙ্গিরা ভারতে ঢুকতে পারে, তাহলে বড় ধরনের বিপদ হওয়া সম্ভব। জঙ্গিদের রোখার জন্য শ্রীনগরে অবস্থিত সেনাবাহিনীর ফিফটিনথ কোর নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করেছে। যে কোনও সময় যে কোনও জায়গায় জঙ্গিদের মোকাবিলা করার জন্য সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
একইসঙ্গে সেনা সূত্রে খবর মিলেছে, গত দু'মাসে আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়েছে অন্তত ৬০ জন জঙ্গি। আরও কয়েকজন জঙ্গিকে এদেশে ঢোকানোর জন্য তৈরি হয়েছে চার-পাঁচটি লঞ্চপ্যাড। গত ৫ অগস্ট সংবিধানের ৩৭০ ধারা লোপ করেছে ভারত। তাতে রেগে গিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে অশান্তি সৃষ্টির জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে পাকিস্তান।
আর দু'মাসের মধ্যে কাশ্মীরে ব্যাপক শীত পড়তে শুরু করবে। জঙ্গিরা যে রাস্তাগুলি দিয়ে এদেশে ঢোকে তা ঢেকে যাবে বরফে। তার আগেই যত বেশি সম্ভব জঙ্গিকে ভারতে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।