
শেষ আপডেট: 31 January 2019 22:33
বহু বছর ধরেই ডেনমার্ক থেকে সাউথ ক্যারোলিনা-- বিভিন্ন দেশে চিকিৎসার জন্য যাওয়া-আসা করেছে শ্যানি। ২০১৬ সালে তার বড় একটি অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, ওই অস্ত্রোপচারের পরে শ্যানির চেহারা খুবই ভারী হয়ে যাবে। বেঢপ দেখতে লাগতে পারে তাকে। অস্ত্রোপচারটি খুব ঝুঁকিরও ছিল। "ওই দিন অপারেশনের পরে শ্যানি বেরিয়ে এল, 'লেট ইট গো' গাইতে গাইতে। চিকিৎসকেরাও অবাক! তাঁরা কাউকে ওটি থেকে গান গাইতে গাইতে বেরোতে দেখেননি এর আগে!" --বললেন ডেন্না। তিনি আরও বলেন, "আমি ওই দিনই বুঝেছিলাম, ওর মধ্যে একটা জীবন আছে। ওর মধ্যে বাঁচতে চাওয়ার তীব্র আকুতি আছে একটা। সেটা নষ্ট করা যাবে না।"
এর পরেই মেয়েকে ডেন্না বলেন, তার ইচ্ছেগুলোর একটা তালিকা বানাতে। সে কী কী করতে চায়। তিনি ঠিক করেন, একটা একটা করে মেয়ের ইচ্ছে পূরণ করবেন তিনি। শ্যানি বানিয়েও ফেলে তালিকা। আর তা করতে করতেই এসে পড়ে তার ১৭তম জন্মদিন।
ডেন্না বলেন, "ও এয়ারহোস্টেস হতে চেয়েছিল। আমি জানতাম, ওটা ওর পক্ষে অসম্ভব। কিন্তু আমার মন মানছিল না। খালি মনে হচ্ছিল, কোনও ভাবে যদি কিছু করা যায়! আমার বারবার ওর শুকনো মুখটা মনে পড়ছিল। ওই মুখে হাসি ফোটাতে আমি মরিয়া ছিলাম।" আমেরিকান এয়ারলাইন্সের পরিচিত এক বন্ধুকে সবটা জানিয়ে চিঠি লেখেন তিনি। এর পরে আর কিছু করতে হয়নি। তাঁকে কল করা হয় আমেরিকান এয়ারলাইন্স থেকে। ফোন করেন একটি বোয়িং জেটের পাইলট। জানান, শ্যানির জন্মদিন তাঁরা প্লেনেই পালন করবেন! সেই সঙ্গেই ওই দিনের বিমান সেবিকা হবে শ্যানি। ওটাই ওর উপহার।
আর কিছু চাওয়ার ছিল না শ্যানির। চাওয়ার ছিল না ডেন্নারও। এর পর থেকে চার বার বিমানে চড়েছে শ্যানি। প্রতি বারই এয়ার হোস্টেস হিসেবে সুন্দর করে কাজ করেছে সে। মূলত নিরাপত্তার বিষয়টি যাত্রীদের বুঝিয়ে দিতেই সাহায্য করে শ্যানি। খানিক পরে অবশ্য হাঁপিয়ে গেলে, বিমানসেবিকার পোশাক পরা অবস্থাতেই বসে পড়েছে নির্দিষ্ট আসনে।
আমেরিকান এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, শ্যানির ১৮ বছর হয়ে গেলে, তাকে অফিসিয়ালি অ্যাপয়েন্টমেন্ট দেওয়া হবে এয়ার হোস্টেস হিসেবে কাজে যোগ দেওয়ার জন্য।
শরীরের প্রতিবন্ধকতা যতই থাক, ইচ্ছেশক্তি আর স্বপ্নের জোর থাকলে বাকি সবই যে ফিকে হয়ে যায়-- আরও এক বার সারা বিশ্বের কাছে দৃষ্টান্ত রাখল শ্যানি। ডেন্না বলছেন, "আমি ভাবতে পারিনি, আমেরিকান এয়ারলাইন্স এতটা এগিয়ে আশবে আমার মেয়েটার জন্য। ওর জীবনের সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইচ্ছেটা পূরণ হয়েছে বলে আমি ভীষণ খুশি। এবার দেখা যাক, পরেরগুলোও হয় কি না!"
এর পরে কী চায় শ্যানি? উত্তর এল, স্বপ্নের পুরুষের সঙ্গে দেখা করতে! তিনি আর কেউ নন, আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।