মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “মানুষ যেন সরকারি দফতরে না ছুটে, বরং পরিষেবা পাড়াতেই পৌঁছে যায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 1 August 2025 15:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘দুয়ারে সরকার’-এর পরে এবার ‘‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ (Amader Para Amader Samadhan)। রাজ্য সরকারের (West Bengal Government) এই নতুন কর্মসূচি শুরু হচ্ছে ২ অগস্ট, শনিবার থেকে। স্থানীয় স্তরে নাগরিক সমস্যার সরাসরি সমাধান করতে এবার বুথ স্তর পর্যন্ত পৌঁছে যাবে প্রশাসন।
গত সপ্তাহেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “মানুষ যেন সরকারি দফতরে না ছুটে, বরং পরিষেবা পাড়াতেই পৌঁছে যায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”
রাজ্যের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে ৮০ হাজার বুথে চালু হবে এই প্রকল্প। প্রতিটি বুথে ১০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ, মোট বরাদ্দ ৮ হাজার কোটি টাকা। এই কর্মসূচিতে রাজ্যের বুথে বুথে কী কী কাজ হবে, শুক্রবার নবান্নের (Nabanna) তরফে সেই তালিকা প্রকাশ করা হল।
নবান্নের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বুথ স্তরে এই ১৪টি বিষয়ে কাজ করা হবে—
১. ড্রেন, নিকাশি ব্যবস্থা, কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কার
২. জলের সংযোগ ও সরবরাহ (নলকূপ, পাইপলাইন)
৩. রাস্তায় আলো (এলইডি, সোলার, হাইমাস্ট)
৪. বাজার এলাকায় শৌচাগার নির্মাণ
৫. অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ছাদ, পাঁচিল, পানীয় জল ব্যবস্থা
৬. প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রঙ, বেঞ্চ, শৌচাগার সংস্কার
৭. পুকুর সংস্কার, ঘাট বাঁধানো
৮. বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন
৯. বাজার এলাকার ড্রেন, দোকান মেরামতি
১০. কমিউনিটি সেন্টার ও পাড়ার ছাউনি নির্মাণ
১১. বাসস্টপ, অটো/রিকশা স্ট্যান্ড, ফুটপাত, অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা
১২. পার্কে বেঞ্চ বসানো, বৃক্ষরোপণ
১৩. বিদ্যুৎ সংযোগ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান
১৪. রাস্তা নির্মাণ ও মেরামতি
এই প্রকল্পের বিশেষত্ব, কোন কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে তা ঠিক করবেন বুথের সাধারণ মানুষ। সরাসরি তাঁদের মতামতের ভিত্তিতেই প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থ খরচ হবে। এতে প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের পরোক্ষ নয়, প্রত্যক্ষ যোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে নবান্ন।
ইতিমধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ করা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, “এই প্রথমবার আমাদের মতামতের ভিত্তিতে এলাকার সমস্যা মেটানো হবে, এটা বড় ব্যাপার।”
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্য সরকার প্রশাসনকে আরও বেশি স্বচ্ছ, গণমুখী ও প্রতিক্রিয়াশীল করে তুলতে চায়। তবে বাস্তবায়নে নিরপেক্ষতা ও দ্রুততা বজায় রাখা নিয়েই থাকবে আসল চ্যালেঞ্জ। এখন দেখার, বাস্তবে এই নতুন মডেল ঠিক কতটা কার্যকর হয়।