সোমবার রাত থেকে টানা পাঁচ ঘণ্টার (Kolkata Heavy Rain) প্রবল বৃষ্টিতে হাসপাতালগুলোর ছবি যেন নদীভাঙন এলাকার মতো।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 23 September 2025 12:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এমনিতেই দু-একঘণ্টার বৃষ্টিতে জল জমে যায় কলকাতার সরকারি হাসপাতালগুলোতে (Governement Hospitals)। সোমবার রাত থেকে টানা পাঁচ ঘণ্টার (Kolkata Heavy Rain) প্রবল বৃষ্টিতে হাসপাতালগুলোর ছবি যেন নদীভাঙন এলাকার মতো।
ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ (National Medical College) থেকে এসএসকেএম (SSKM Hospital), সব জল থইথই। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে ল্যাবের সামনেই জমল হাঁটু-সমান জল। কর্তৃপক্ষ পাম্প বসিয়ে জল নামানোর চেষ্টা শুরু করেছে। যদিও হাসপাতাল প্রশাসনের দাবি, আপাতত চিকিৎসা পরিষেবায় ব্যাঘাত ঘটেনি। অন্যদিকে, ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের এক্স-রে বিভাগের অবস্থাও করুণ—ভিতরে ঢুকে পড়েছে জল, ফলে রোগী ও তাঁদের পরিবারকে পড়তে হচ্ছে চরম সমস্যায়।
সপ্তাহের শুরু, কাজেই আউটডোরে লম্বা লাইন পড়েছে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে। কিছু হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোগীদের যাতে অসুবিধা না হয়, তার জন্য রবিবারই ডিউটিতে থাকা চিকিৎসক ও কর্মীদের হাসপাতালে থেকে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
কোন হাসপাতালে কেমন পরিস্থিতি?
এনআরএস হাসপাতাল: জরুরি বিভাগ ও সাধারণ ওয়ার্ডে জল না জমলেও ভিতরের রাস্তা জলমগ্ন।
আরজি কর হাসপাতাল: তিনটি মূল ফটকই ডুবে গিয়েছে জলে। হাসপাতালের ক্যান্টিন ও পার্কিংয়ের মতো নিচু জায়গাগুলিও প্লাবিত। পাম্প চালিয়ে জল তোলার চেষ্টা চলছে।
এসএসকেএম: একাধিক জায়গায় জল জমার খবর পাওয়া গিয়েছে।
অতিবৃষ্টির পর পরিস্থিতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা এই হাসপাতালগুলির চিত্র ফের একবার স্পষ্ট করে দিল।
কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যে সব রাস্তায় আগে কখনও জল জমেনি, সেই রাস্তাও জলের নীচে। এই সব এলাকা থেকে জল বার করার চেষ্টাও শুরু হয়েছে। তবে যেহেতু দীর্ঘ ক্ষণ ধরে বৃষ্টি হচ্ছে, তাই জল নামতে দেরি হচ্ছে।
কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম সকাল থেকেই পুরসভার কন্ট্রোল রুমে রয়েছেন। প্যান্ট গুটিয়ে পরিস্থিতি নজরে রাখছেন। কিন্তু তিনিও জানিয়েছেন, এরপর একফোঁটা বৃষ্টি না হলেও অন্তত ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লেগে যাবে শহরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে।
তাছাড়াও আরও মর্মান্তিক খবর হল, শহর কলকাতায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অন্তত ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। যা চিন্তা বাড়াচ্ছে সরকারের। এমন কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে না হয়, তাই বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে, জল নামলে তবেই পরিস্থিতি বুঝে আবার বিদ্যুৎ পরিষেবা ঠিক করা হবে।
আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নিম্নচাপের জেরে এই বৃষ্টি হয়েছে। হাওয়া অফিস আগেই জানিয়েছিল, ষষ্ঠীর দু’দিন আগে বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। তার জেরে পুজোয় বৃষ্টি হতে পারে। যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় সাধারণ মানুষ থেকে পুজো কমিটিগুলি।