সরকারি চিকিৎসকরাই যদি এমনভাবে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রোগীদের ঠকান, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায় — উঠছে প্রশ্ন।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 2 July 2025 13:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের (Swasthya Sathi) টাকা হাতাতে এবার হার্নিয়ার (Hernia) বদলে অ্যাপেনডিক্স (Appendix) কাটার গুরুতর অভিযোগ উঠল সরকারি হাসপাতালের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি এলাকার ঘটনা। অভিযুক্ত চিকিৎসক বিশ্বজিৎ দাসের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে স্বাস্থ্য দফতর।
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, দেশবন্ধু নগরের বাসিন্দা বছর পঁয়তাল্লিশের বিশ্বজিৎ দাস দীর্ঘদিন ধরেই হার্নিয়ার সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য তিনি যান পানিহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। অভিযোগ, কর্মরত চিকিৎসক বিশ্বজিৎ দাস রোগীকে ঘোলার মুড়াগাছার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন।
রোগীর পরিবারের দাবি, প্রথমে বলা হয়েছিল হার্নিয়ার অস্ত্রোপচারই হবে। কিন্তু পরে চিকিৎসক জানান, হার্নিয়ায় স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে সরকারি অর্থ মেলে না। তাই কাগজে-কলমে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচার দেখাতে হবে। চিকিৎসকের কথায় ভরসা করেই অপারেশনের জন্য ওই বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন রোগী।
অস্ত্রোপচারের পর বাড়ি ফেরেন বিশ্বজিৎ। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই ফের ব্যথা শুরু হয়। ফুলে ওঠে হার্নিয়ার জায়গাটি। রক্তক্ষরণও শুরু হয় অস্ত্রোপচারের স্থান থেকে। পরিবারের সন্দেহ হলে তাঁরা ইউএসজি করান। আর সেখানেই ফাঁস হয়ে যায় পুরো ঘটনা। রিপোর্টে স্পষ্ট দেখা যায়, হার্নিয়ার কোনও অস্ত্রোপচার হয়নি, অ্যাপেনডিক্স কাটা হয়েছে।
রোগীর পরিবারের দাবি, “স্বাস্থ্যসাথীর টাকার জন্যই এই জালিয়াতি। চিকিৎসক এবং বেসরকারি হাসপাতাল যৌথভাবে এই প্রতারণা করেছে। ফলে রোগী শয্যাশায়ী হয়ে গিয়েছেন। রোজগার বন্ধ, শরীর চলার অবস্থায় নেই। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সুবিচার চাইছি।”
এ প্রসঙ্গে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সমুদ্র সেনগুপ্ত বলেন, “চিকিৎসক বিশ্বজিৎ দাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। তাঁকে আপাতত অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে, অভিযুক্ত চিকিৎসক কিংবা বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ নিয়ে এখনও কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফোন করা হলেও চিকিৎসক বিশ্বজিৎ দাস ফোন ধরেননি।
ঘটনার জেরে ফের প্রশ্নের মুখে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের স্বচ্ছতা। সরকারি চিকিৎসকরাই যদি এমনভাবে বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে হাত মিলিয়ে রোগীদের ঠকান, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায় — উঠছে প্রশ্ন।