
শেষ আপডেট: 29 January 2023 02:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পণের (bribe) দাবিতে দিনরাত চলত অকথ্য নির্যাতন (torture), গালিগালাজ, মারধর। দিনের পর দিন এই অত্যাচার আর সহ্য করতে পারলেন না মহিলা। শেষে গলায় দড়ি দিয়ে বেছে নিলেন মৃত্যুর (suicide) পথ। এমনই অভিযোগ ওই বধূর বাবার। রাজ্যের প্রান্তিক কোনও জেলায় নয়, এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার কাছেই হরিদেবপুরে (Haridevpur)। মৃতার নাম মাম্পি দাস। বয়স মাত্র ২২ বছর।
মৃত্যুর আত্মহত্যার খবর পেতেই তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে মারাত্মক সমস্ত অভিযোগ আনেন মৃতার বাবা। সূত্রের খবর, গত বৃহস্পতিবার, সরস্বতী পুজোর দিন হরিদেবপুর থানা এলাকার কৈলাস ঘোষ রোডে এই ঘটনাটি ঘটেছে। তাঁর বাবা গৌতম কুমার দাসের অভিযোগ, "বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে মেয়ের উপর অকথ্য অত্যাচার চালাত শ্বশুরবাড়ির লোকজন। সেই অত্যাচারই সহ্য করতে পারল না মাম্পি। অকালে সবাইকে ছেড়ে চলে গেল।"
ইতিমধ্যে মৃতা বধূর বাবার এই অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী প্রণয় চন্দ্র, ননদ কেয়া মণ্ডল, নন্দাই বিশ্বজিৎ মণ্ডল এবং শাশুড়ি কৃষ্ণা চন্দ্রকে গ্রেফতার করেছে হরিদেবপুর থানার পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতন এবং যৌতুকজনিত মৃত্যুর মামলা দায়ের করে মৃত্যুর তদন্ত শুরু করা হয়েছে। বিয়ের মাত্র দেড় বছরের মাথায় এত বড় ঘটনা ঘটে যাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকার বাসিন্দারাও।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, ফেসবুকের মাধ্যমে মাম্পি ও প্রণয়ের পরিচয় হয়েছিল। নিজেকে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কর্মী বলে পরিচয় দিয়েছিলেন হরিদেবপুরের প্রণয়। সেখান থেকেই দু'জনের প্রেমের সম্পর্কের সূত্রপাত। মাম্পির কাছে নিজেকে একজন ব্যাঙ্ককর্মী হিসেবে পরিচয় দেয় প্রণয়। এরপর মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় ভালবাসার টানে সুদূর মালদহ থেকে কলকাতা চলে আসেন মাম্পি। প্রেমিককে বিয়েও করে ফেলেন।
অভিযোগ, এরপর থেকেই নাকি শুরু হয় অত্যাচার। দিনের পর দিন পণের দাবিতে মাম্পিকে মারধর, গালিগালাজ লেগেই থাকত। এই লাগামহীন নির্যাতনের জেরেই বিয়ের মাত্র দেড় বছরের মধ্যে আত্মঘাতী হলেন সেই বধু। জানা গেছে, এই ঘটনার পর তাঁকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁর স্বামী, ননদ ও নন্দাই মিলে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা মহিলাকে মৃত বলে ঘোষণা করতেই হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় তিনমূর্তি। যদিও বেশিক্ষণ গা ঢাকা দিয়ে থাকতে পারেনি তিনজনের কেউই। অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ একে একে সবাইকেই গ্রেফতার করে।