সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এসআইআরে আধার কার্ড মান্যতা পাবে। যদিও তা নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। মূলত এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই সর্বদল বৈঠকের শুরুতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 5 November 2025 16:05
মঙ্গলবার থেকেই রাজ্যে শুরু হয়েছে এসআইআরের (SIR) কাজ। সেই প্রেক্ষিতেই এদিন বিকেলে সর্বদল বৈঠক (All Party Meeting) করছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO West Bengal) মনোজকুমার আগরওয়ালের দফতর। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকের শুরুতেই আধার ইস্যুতে উত্তেজনা ছড়ায়।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI) জানিয়েছে, এসআইআরে আধার কার্ড (Aadhar Card) মান্যতা পাবে। যদিও তা নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। মূলত এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করেই সর্বদল বৈঠকের শুরুতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। আধার কার্ডের মান্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলে সিপিএম (CPM)। সিএএ তে আবেদন করলে সেই নথির ভিত্তিতে ভোটার তালিকায় নাম উঠে যাবে। বিজেপির এই দাবির পক্ষে বা বিপক্ষে কমিশনের বক্তব্য কী, প্রশ্ন তোলেন সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty)।
অন্যদিকে, কে নাগরিক কে নাগরিক নয়, এটা কমিশন ঠিক করছে কি করে? এই প্রশ্নের উত্তরও জানতে চেয়েছে সিপিএম (CPM)। পাশাপাশি আজকের বৈঠকে প্রশান্ত কিশোরের (Prashant Kishor) দুই জায়গায় নাম থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির (BJP) প্রতিনিধি। তবে ইতিমধ্যে তাঁকে নোটিস দেওয়া হয়েছে বিহারের সংশ্লিষ্ট বিধানসভার নির্বাচনী পদাধিকারীর তরফে। ৩ দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে প্রশান্ত কিশোরকে।
আধারের পাশাপাশি এনুমেরেশন ফর্ম নিয়েও প্রশ্ন তোলে রাজনৈতিক দলগুলি। ২০০২ সালের এসআইআরের সময় এনুমেরেশন ফর্ম ছিল না। আজ হঠাৎ করে কেন এই ফর্ম নিয়ে আসা হল, কীসের ভিত্তিতে, প্রশ্ন তোলে কংগ্রেস। শুধু তাই নয়, এসআইআর হয়ে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর অন্তত এক বছর এনুমেরাশেন ফর্ম প্রিজার্ভ করতে হবে বলে দাবি তাঁদের।
এদিকে যে ভোটার ২০০২ সালের এসআইআরের পর পাঁচটি নির্বাচনে ভোট দিল, আজকে ২০০২-এর তালিকায় তার নাম না থাকার কারণে কেন তাকে আবার প্রমাণ দিতে হবে সে যোগ্য, এই প্রশ্ন করেন সুজনও।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, সোমবার রাত ১২টা থেকে এই ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ, নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করা, সংশোধন বা পরিবর্তনের মতো কোনও কাজ আর করা যাবে না।
২৮ অক্টোবর থেকে শুরু হবে এনুমেরেশন ফর্ম (সংখ্যা যাচাই সংক্রান্ত ফর্ম) ছাপার কাজ এবং সেই দিনই বিএলওদের প্রশিক্ষণ শুরু হবে, যা চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। পরের ধাপে ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের হাতে এনুমেরেশন ফর্ম তুলে দেওয়া হবে। প্রবাসী বা রাজ্যের বাইরে থাকা নাগরিকরা অনলাইনেও ফর্ম পূরণ করতে পারবেন।
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৯ ডিসেম্বর। কেউ তালিকায় ভুল বা বাদ পড়া নাম নিয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর ৯ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সেই অভিযোগ খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া চলবে। সবশেষে ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।