দ্য ওয়াল ব্যুরো : শেষ পর্যন্ত ত্রিশঙ্কু কর্নাটক বিধানসভা। সব থেকে বেশি আসন জিতলেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি বিজেপি। দেবেগৌড়ার জনতা দল (সেকুলার) আর কংগ্রেসের আসল মেলালে ম্যাজিক ফিগারের বেশিই হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যেই সেই পথে হাঁটতে শুরু করেছে কংগ্রেস। ফলে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের কপালে চিন্তার ভাঁজ।
এখন সবার চোখ তাই কর্নাটকের রাজ্যপাল বাজুভাই বালার দিকে। কাকে প্রথমে সরকার গড়ার ডাক দেবেন তিনি?
এরকম ক্ষেত্রে রাজ্যপাল কী সিদ্ধান্ত নেবেন তার কোনও স্পষ্ট নির্দেশিকা নেই। পুরোটাই তাঁর সিদ্ধান্ত। জনতা দল (সেকুলার)-এর এইচ ডি কুমারস্বামীকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আহ্বান জানাতে পারেন তিনি। আবার সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপিকে ডেকেও বিধানসভায় নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলতে পারেন।
কিন্তু বিরোধীরা যদি অনাস্থা প্রস্তাব আনেন, এবং ইয়েদুরাপ্পারা নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে কিন্তু রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করা ছাড়া কোনও উপায় থাকবে না।
কিন্ত বাজুভাই নিজে বিজেপির সদস্য ছিলেন। সঙ্ঘ ঘনিষ্ঠ বলেও খ্যাত। ১৯৭১ সালে জনসঙ্ঘে যোগ দেন।
একসময় ছিলেন গুজরাত বিধানসভার স্পিকার। খোদ নরেন্দ্র মোদীর সময় গুজরাতের অর্থমন্ত্রী।
সাতবার রাজকোট পশ্চিম বিধানসভা থেকে বিজেপির হয়ে জিতে রেকর্ড করেছিলেন। তারপরেও ২০০২ সালে মোদীকে জেতাতে সেই খাস সিট ছেড়ে দেন তিনি।
সেই কথা অবশ্য ভোলেননি নরেন্দ্র মোদী। ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর প্রথম যাঁকে রাজ্যপাল করা হয় , তিনি হলেন এই বাজুভাই বালা।
হাসিখুশি, সবার সঙ্গে সদভাব রাখা এই বাজুভাই কিন্তু রাজনৈতিক জীবনে সব সময়েই নিজের থেকে বিজেপির স্বার্থকেই এগিয়ে রেখেছে। ফলে রাজনৈতিক মহলের অনেকেই বলছেন, বাজভাই এবারও বিজেপির স্বার্থই দেখবেন। ২০১৯ সালের আগে কংগ্রেসের সমর্থনে কর্নাটকে সরকার হোক, এটা কিন্তু চাইবেনা মোদি, অমিত শাহের কেউই। বিজেপি বরং চাইছে ডাকা হোক ইয়েদুরাপ্পাকেই। তারপর যদি বিধানসভায় আস্থা ভোটে হেরেও যায় বিজেপি, তাহলে জারি হবে রাষ্ট্রপতির শাসন । সেক্ষেত্রেও কিন্তু আটকানো যাবে কংগ্রেসকে।
এখন দেখার বাজুভাই শেষ অবধি কী করেন।