দ্য ওয়াল ব্যুরো : প্রবল বৃষ্টির মধ্যে কোঝিকোড় বিমানবন্দরের এক কিলোমিটার ভেতরে অবতরণ করেছিল দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি। তখন সে ছিল ফুল স্পিডে। সেজন্যই বিমানটি রানওয়ের সীমানা পেরিয়ে ৩৫ ফুট গভীর গর্তে পড়ে যায়। বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে একদফা তদন্তের পরে শনিবার বিকালে একথা জানিয়েছে ডায়রেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশান। তদন্তকারীদের বক্তব্য, রানওয়ে ছিল ভিজে। তার ফলে হয়তো বিমানের ব্রেক কাজ করেনি। বিমানটি প্রচণ্ড গতিতে গর্তে পড়ে বিমানবন্দরের দেওয়ালে ধাক্কা মেরে থেমে যায়।
ফ্লাইটরেডার ২৪ নামে এক ফ্লাইট ট্রাকিং অ্যাপ-এ জানানো হয়েছে, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস নাইন-১৩৪৪ সম্ভবত প্রথমবারের চেষ্টায় নামতে পারেনি। দ্বিতীয়বার সে আরও বেশি গতিতে নামতে চেষ্টা করে। একসময় রানওয়ে থেকে ৪৫০ ফুট উঁচুতে ঘণ্টায় ৩২৫ কিলোমিটার গতিবেগে বিমানটি উড়ছিল।
ফ্লাইটরেডার ২৪ জানিয়েছে, প্রথমবার যখন বিমানটি নামতে চেষ্টা করে, তখন সে ২৫০০ ফুট উঁচুতে ঘণ্টায় ২৭৬ কিলোমিটার গতিতে উড়ছিল। দ্বিতীয়বার চেষ্টা করে যখন সে রানওয়ে ছুঁচ্ছে, তার গতি ছিল ঘণ্টায় ৩৫৪ কিলোমিটার। প্রথমবার যখন বিমানটি নামতে চেষ্টা করে, তখন খালি চোখে দু'কিলোমিটার পর্যন্ত দেখা যাচ্ছিল। পাইলটরা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন, তাঁদের যেন রানওয়ের অন্য দিক থেকে নামতে দেওয়া হয়।
ডায়রেক্টর জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশনের এক তদন্তকারী শনিবার সকালে জানিয়েছেন, ওয়েদার রেডারে দেখা গিয়েছে, বিমানটির ২৮ নম্বর রানওয়েতে নামার কথা ছিল। প্রবল ঝড়বৃষ্টির মধ্যে বিমানটি দু'বার নামার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। তখন বিমানটি ১০ নম্বর রানওয়েতে নামতে চেষ্টা করে।
দুর্ঘটনায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে বিমানের দু’জন পাইলটও রয়েছেন। বন্দে ভারত মিশনের আওতায় চলছিল এই বিমানটি। দুবাই থেকে ১৯১ জন যাত্রী নিয়ে কেরলে ফিরছিল সেটি।
দুর্ঘটনার পরেই শুরু হয় উদ্ধারকাজ। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় বিমান থেকে সবাইকে বের করা সম্ভব হয়। অন্তত ১১২ জন আহতকে কোঝিকোড় ও মালাপ্পুরম জেলার একাধিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে খবর।
বিমানবন্দর সূত্রে খবর, ওই বিমানে ১৭৪ জন যাত্রী, ১০ সদ্যোজাত, দু’জন পাইলট ও চারজন বিমানকর্মী ছিলেন। করোনা আবহে বিদেশে আটকে পড়া ভারতীয়দের দেশে ফেরানোর কাজ করছিল বিমানটি। দুর্ঘটনার পরেই ওই বোয়িং ৭৩৭ দু’টুকরো হয়ে যায়। তার পরে কেবিনের দিকের অংশে আগুন ধরে যায়। ফলে দুই পাইলটেরই মৃত্যু হয়। কিন্তু বিমানের বাকি অংশে আগুন ধরেনি। নইলে আরও ভয়ংকর বিপদ হতে পারত বলে জানাচ্ছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।