শুক্রবার হুমায়ুনের মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বাড়িতে দু’জনের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাখানেক আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, আসাদউদ্দিন ওয়েইসির (Asaduddin Owaisi) দল মিম এবং হুমায়ুনের জেইউপি- দু’পক্ষই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর জোট তৈরিতে আগ্রহী।

শেষ আপডেট: 30 January 2026 23:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে (2026 WB Assembly Election) সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক অন্দরে জোট আলোচনা নিয়ে ব্যাপক সরগরম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক এবং জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর (JUP Chairman Humayun Kabir) গত কয়েক দিন ধরে একাধিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে বৈঠকের পর শুক্রবার তিনি দেখা করেন মিমের রাজ্য সভাপতি ইমরান সোলাঙ্কির সঙ্গেও। এই বৈঠক ঘিরে মুর্শিদাবাদ জেলায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার হুমায়ুনের মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) বাড়িতে দু’জনের মধ্যে প্রায় ঘণ্টাখানেক আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, আসাদউদ্দিন ওয়েইসির (Asaduddin Owaisi) দল মিম এবং হুমায়ুনের জেইউপি- দু’পক্ষই আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে একটি বৃহত্তর জোট তৈরিতে আগ্রহী। জেইউপি মুখপাত্র কামাল হোসেন জানান, “ওয়েইসির নির্দেশেই ইমরান শনিবার রেজিনগরের সভায় আসছেন। আরও কয়েকটি দলের নেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।”
হুমায়ুন আগেই ঘোষণা করেছেন যে শনিবার রেজিনগরের মরাদিঘি এলাকায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে যে ‘মেগা সমাবেশ’ হচ্ছে, সেখান থেকেই আগামী নির্বাচনে তাঁদের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তাঁর দাবি, এই সভায় অন্তত ১০ লক্ষ মানুষ উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি এই সমাবেশ থেকেই তৃণমূল সরকারকে হটানোর রাজ্যব্যাপী অভিযান শুরু হবে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
সভায় কারা কারা আসছেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। হুমায়ুন বলেন, মিম, এসডিপিআই, আজাদ সঙ্ঘ-সহ কয়েকটি আঞ্চলিক ও ছোট দলের নেতারা উপস্থিত থাকতে পারেন। এমনকি তিনি অ-বিজেপি ও অ-তৃণমূল দলগুলোকেও এই মঞ্চে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সদ্য আবার সিপিএমের (CPM News) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Md Salim) এবং জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir Md Salim Meeting) বৈঠক নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। বিষয়টা বাঁকা নজরে দেখছে বামেদেরই কেউ কেউ।
প্রবীণ বামনেতা কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় (Kanti Ganguly) বলছেন, আর যাই হোক সিপিএম নিশ্চয়ই কোনও সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে জোট করবে না। শুধু তিনিই নন, দলের একাধিক নেতৃত্বও একই কথা বলাবলি করছেন। অনেকেই মনে করেন, যাঁর বিরুদ্ধে বাবরি মসজিদ নির্মাণের অভিযোগ ওঠে, তাঁর সঙ্গে জোট করলে বামেদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান ও সামাজিক ভিত্তি আরও সংকুচিত হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে বিজেপিও কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। শুক্রবার দিলীপ ঘোষ বলেন, “বামেরা এখন আর গান্ধীজি বা বিবেকানন্দ নন, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকেও পুজো করতে রাজি। হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠকই তার প্রমাণ।”
সব মিলিয়ে, হুমায়ুন কবীরের সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।