রবীনবাবুর মতে, দলীয় সিদ্ধান্তেই হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সেলিম। সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদকের বক্তব্যই সর্বোচ্চ। যাঁরা জেনেও না জানার ভান করছেন, তাঁরাই এমন প্রশ্ন করেন।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 30 January 2026 15:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট এলেই বারবার ফিরে আসে ‘তৃতীয় শক্তি’-র ধারণা। বাম-কংগ্রেস (CPIM Congress), পরে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ (ISF)— এই সব পরীক্ষানিরীক্ষার ফলাফল খুব আশাব্যঞ্জক না হলেও আলোচনা থামে না। সদ্য আবার সিপিএমের (CPM News) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Md Salim) এবং জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir Md Salim Meeting) বৈঠক নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। বিষয়টা বাঁকা নজরে দেখছে বামেদেরই কেউ কেউ।
প্রবীণ বামনেতা কান্তি গঙ্গোপাধ্যায় (Kanti Ganguly) বলছেন, আর যাই হোক সিপিএম নিশ্চয়ই কোনও সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে জোট করবে না। শুধু তিনিই নন, দলের একাধিক নেতৃত্বও একই কথা বলাবলি করছেন। অনেকেই মনে করেন, যাঁর বিরুদ্ধে বাবরি মসজিদ নির্মাণের অভিযোগ ওঠে, তাঁর সঙ্গে জোট করলে বামেদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান ও সামাজিক ভিত্তি আরও সংকুচিত হতে পারে। তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাপার হল, সেই আলোচনায় গা না ভাসিয়ে ভিন্ন মত সিপিএম-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রবীন দেবের (Rabin Deb)। দুই প্রবীণ বামনেতার বক্তব্য এখন যেন সিপিএম-কে আড়াআড়ি ভাগ করে দিয়েছে।
রবীনবাবুর মতে, দলীয় সিদ্ধান্তেই হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সেলিম। সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদকের বক্তব্যই সর্বোচ্চ। যাঁরা জেনেও না জানার ভান করছেন, তাঁরাই এমন প্রশ্ন করেন।
বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল (TMC) বনাম বিজেপির (BJP) দ্বিমুখী লড়াই যে কার্যত স্থায়ী রূপ নিয়েছে, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ২০১১-র আগে যে রাজ্যে বাম (CPIM) বনাম কংগ্রেসের (Congress) দ্বন্দ্ব ছিল রাজনৈতিক নিয়ম, ক্ষমতার পালাবদলের পরে সেই জায়গায় বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি। বিশেষত ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে রাজ্যের রাজনৈতিক ছবি একেবারেই স্পষ্ট। এমন অবস্থায় বাম-কংগ্রেস, পরে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ-এর সংযুক্ত মোর্চাও তৈরি হয়েছে। যদিও ভোট বাক্সে তার প্রভাব তেমন দেখা যায়নি। যে কারণে, হুমায়ুনের সদ্যোজাত দল 'জনতা উন্নয়ন পার্টি'র সঙ্গেও কথাবার্তা এগোচ্ছে সিপিএম।
এখন কথা হচ্ছে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম কি তাহলে ত্রিভুজ থেকে চতুর্ভুজ হবে বামজোট? সে সব এখনও আলোচনার মধ্যেই রয়েছে। তার কারণ, এ বার বিধানসভা নির্বাচনে একলাই চলতে চাইছে কংগ্রেস। শোনা যাচ্ছে, এই 'একলা চলো' নীতির নেপথ্যে রয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার (Suvankar Sarkar)।
সেলিমও কংগ্রেস নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্তহীনতা নিয়ে বিরক্ত। তাঁর কথায়, “অধীর চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury) যখন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ছিলেন, তখন বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতা হয়েছিল। এখন যিনি সভাপতি হয়েছেন, শুভঙ্করবাবুর মধ্যে তৃণমূলের প্রতি একটু বাড়তি দরদ আছে বলেই মনে হয়।শুভঙ্করবাবু নিজে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তিনি এআইসিসির নির্দেশের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। কিন্তু বামফ্রন্ট অনন্তকাল অপেক্ষা করে থাকতে পারে না। আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি।”
বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির সঙ্গে আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত। সেলিমের দাবি, আগামী দু’-এক দিনের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যাবে। প্রথম অগ্রাধিকার বামফ্রন্ট। তার পরে এমন বহু বামপন্থী দল, ব্যক্তি ও গোষ্ঠী রয়েছে যারা ফ্রন্টের বাইরে থাকলেও বিজেপি ও তৃণমূলকে হারাতে একজোট হতে চাইছে। তাঁদের সঙ্গেও কথা চলছে। এখন দেখার, জোটের ঘোঁট কবে মসৃণ হয়।