
শেষ আপডেট: 9 February 2024 17:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: গ্রামবাসীদের রোষের মুখে শিবু হাজরা ও উত্তম সর্দার এলাকা ছাড়লেও তার অনুগামীদের তাণ্ডব অব্যাহত। এমনটাই অভিযোগ জেলিয়াখালির বাসিন্দাদের। শুক্রবার সকাল হতেই দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত গোটা এলাকা। সকালবেলাতেই শিবু হাজরার বাগানবাড়ি, পোল্ট্রি-ফার্ম ও বসতবাড়ি ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় গ্রামবাসীরা। সামনের সারিতে রয়েছেন মহিলারা। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করে শিবুর অনুগামীরাও। অবস্থা সামাল দিতে পুলিশ পৌঁছলে রোষের মুখে পড়তে হয় পুলিশ কর্মীদেরও। সংঘর্ষে জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী। পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিআইজি-সহ পদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। দুই তৃণমূল নেতা শিবপ্রসাদ হাজরা ও উত্তম সরদার কে গ্রেফতারের দাবিতে পথে বসে রয়েছেন গ্রামের মানুষ।
গত কয়েক দিনের মতোই আজ শুক্রবারও ভোর হতেই রাস্তায় নামেন মানুষ। শেখ শাহজাহানের ঘনিষ্ঠ দুই তৃণমূল নেতা শিবপ্রসাদ হাজরা ও উত্তম সরদারকে গ্রেফতারের দাবিতে এদিন মহিলারা হাতে লাঠি ঝাঁটা নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। এলাকার কয়েকশো মহিলার বিক্ষোভে উত্তাল হয় এলাকা। তাঁরা অভিযোগ করতে থাকেন ভিটে-মাটি কেড়ে নিয়েই রেয়াত করেনি এই নেতারা। লাগাতার তাঁদের সম্মানহানি করে। বিনা পারিশ্রমিকে শ্রম দিতে হয়। তৃণমূলের কোনও মিটিং মিছিলে না গেলেই তাদের রেশন বন্ধ করে দিচ্ছে, জব কার্ডের কাজ বন্ধ করে দিচ্ছে। প্রতিবাদ করলে হুমকি দেয়। থানায় গেলেও কোনও ব্যবস্থা নেয় না পুলিশ।
বিক্ষোভ আন্দোলন মারমুখী চেহারা নেয় অচিরেই। জেলিয়াখালিতে শিবু হাজরার পোল্ট্রি ফার্মে লাঠি সোটা নিয়ে ঢুকে পড়ে গ্রামের মহিলারা। ভাঙচুর করে আগুনে পুড়িয়ে দেয় পোল্ট্রি ফার্ম। দুপুর হতেই শিবুর বাগানবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। সমস্ত আসবাব আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তিনতলা এই বাগানবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার পরে তার দোকানেও হামলা চালায় বিক্ষুব্ধরা। হাতুড়ি দিয়ে দোকানের দরজা ভাঙার চেষ্টা করে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তাঁদের উপর শুক্রবারও চড়াও হয়েছে শিবু হাজরার দলবল। মহিলাদের শ্লীলতাহানি করেছে। তাদের মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জেলিয়াখালিতে সাধারণ মানুষের জমি জোর করে দখল করেছিল এই শিবু। সেখানে পোল্ট্রি ফার্ম করেছিল। সামন্ত প্রভুদের মতোই শিবু ও উত্তম সর্দারদের ভয়ে নিজেদের জমিতেই পোল্ট্রি ফার্মে বেগার খাটতে হত তাঁদের। মজুরি চাইলেই জুটত মার। গ্রামের বেশ কয়েকজন মহিলার অভিযোগ, শিবু ও উত্তম তাঁদের জনখাটা স্বামীদের মেরে কোমর ভেঙে দিয়েছিল। অশান্তির খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ গেলে শাহজাহান অনুগামীদের উপর তার জের আছড়ে পড়েছে। গ্রামবাসীদের একটাই দাবি সন্দেহখালিতে চলা শাহজাহানদের দমন-পীড়ন বন্ধ হোক। পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করুক।
এডিজি আইনশৃঙ্খলা মনোজ ভার্মা বলেন, "পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। পুলিশ আধিকারিকরা তদন্ত করছেন। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে লিখিতভাবে জানানো হোক। পুলিশ অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে। আর কেউ অশান্তি পাকালে তা বরদাস্ত করা হবে না।" সন্দেশখালির দিনভরের উত্তাপ অবশ্য বেলা পড়লেও স্তিমিত হয়নি।