দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা রোগীদের চিকিৎসায় কেরলের পরে এবার গুজরাতেও শুরু হতে চলেছে প্লাজমা থেরাপি। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনেই আহমেদাবাদের দু’টি হাসপাতালে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে বলে জানা গিয়েছে। সঙ্কটাপন্ন রোগীদের চিকিৎসাতেই এই থেরাপির প্রয়োগ হবে বলে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর।
গুজরাতের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের মুখ্যসচিব জয়ন্তী রবি বলেছেন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানির। প্লাজমা থেরাপি শুরু করার ব্যাপারে কেন্দ্রের অনুমতি মিলেছে। মৌখিকভাবে ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেলের অনুমতিও পাওযা গেছে। এবার আক্রান্ত রোগীদের উপরে এই থেরাপির ট্রায়াল শুরু হবে।
প্লাজমা থেরাপি হল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিদের শরীরের প্লাজমা নিয়ে করোনা আক্রান্তদের শরীরে তা প্রতিস্থাপন করা। তাহলে সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তির অ্যান্টিবডি আক্রান্তের শরীরে গিয়ে কোভিড ১৯ ভাইরাসকে হারিয়ে তাঁকে সুস্থ করে তুলতে পারবে বলেই বিজ্ঞানীদের ধারণা। যদিও এখনও এই টেস্ট করে দেখা হয়নি।
জানা গিয়েছে, কোনও ব্যক্তি করোনা সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠার পরে একাধিকবার তাঁর শরীরে পরীক্ষা করে দেখা হয়। একবার সুস্থ হওয়ার পর ১৪ দিন ধরে যদি তাঁর রিপোর্ট নেগেটিভ আসে, তখন তাঁকে পুরোপুরি সুস্থ বলা যায়। এরকম হলে তবেই তাঁর প্লাজমা এই থেরাপির জন্য নেওয়া হবে।
গুজরাতের স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, যেহেতু এই থেরাপির প্রয়োগ প্রথমবার হচ্ছে, তাই রোগীদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। দাতা ও গ্রহীতার অনেকবার শারীরিক পরীক্ষা করে নেওয়া হবে। আহমেদাবাদের বিজে মেডিক্যাল কলেজ ও এসভিপি হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীদের উপরে প্লাজমা থেরাপি শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।
দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীদের উপর প্লাজমা থেরাপির ট্রায়াল শুরু হবে বলে আগেই জানিয়েছিল ন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)।এক্ষেত্রে প্লাজমা-থেরাপি বা Convalescent Plasma Therapy এবং প্লাজমা এক্সচেঞ্জ থেরাপি, দু’রকম পদ্ধতির প্রয়োগ করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছিল। দেশের একাধিক ইনস্টিটিউশনকে এই থেরাপি করার পরামর্শ দিয়েছে আইসিএমআর। যদিও তা তাদের প্রোটোকল মেনে। কেরলে ইতিমধ্যেই এই থেরাপির ট্রায়াল শুরু করেছেন ডাক্তাররা। সরকারি উদ্যোগে তৈরি হয়েছে বিশেষ টাস্ক ফোর্স। কেরলের ডাক্তাররা বলছেন, প্লাজমা-থেরাপির প্রয়োগ কীভাবে হতে পারে তার একটা প্রোটোকল তৈরি হয়েছে। সংক্রমণ সারিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা দাতার খোঁজও চলছে। তবে এই থেরাপি প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনেক নিয়মও আছে। দাতা ও গ্রহীতার রক্তের গ্রুপ, রক্তের আরও কয়েকটি পরীক্ষার প্রয়োজন হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে ওঠার পরেও তাঁকে ৭-১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রেখে পর্যবেক্ষণ করতে হয়। সংক্রমণ সম্পূর্ণ সেরে গেছে নিশ্চিত হলেই তাঁর প্লাজমা নেওয়া হয় থেরাপির জন্য।