২০২৬-এর নির্বাচনের আগে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বাদ যাচ্ছে ৫৮ লক্ষের বেশি ভোটারের নাম। মঙ্গলবার সকালে নাম বাদের তালিকা প্রকাশিত হল।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 16 December 2025 12:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মঙ্গলবার সকালে কমিশনের ঘোষণামতোই প্রকাশিত হল খসড়া তালিকা (SIR Draft List)। এদিন প্রথমে নাম বাদের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়, যা দেখা যাবে ceowestbengal.wb.gov.in/asd_sir ওয়েবসাইটে, এরপরই খসড়া তালিকাও প্রকাশ পায়। কমিশনের ওয়েবসাইটে voters.eci.gov.in কিংবা প্লেস্টোর থেকে ECINET অ্যাপ ডাউনলোড করে জানতে পারবেন তালিকায় আপনার নাম আছে কিনা। নির্বাচন কমিশন আগেই জানিয়েছিল, ৫৮ লক্ষের বেশি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে।
কীভাবে আপনার নাম দেখবেন-
অনলাইন এবং অফলাইন দুইভাবেই এই তালিকা দেখা যাবে। রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটে (WB CEO Website) দেখা যাবে। সেখানে আপনার নাম ও ভোটার কার্ডের নম্বর দিলেই আপনি দেখতে পাবেন এই তালিকা।
অনলাইন: ভোটাররা যেতে পারেন—
নির্বাচন কমিশনের অ্যাপ খুললেই একাধিক অপশন চোখে পড়বে। সেখানেই সবুজ রঙের একটি বক্সে লেখা থাকবে ‘Search Your Name in Voter List’। ওই বক্সে ট্যাপ বা ক্লিক করলেই একটি নতুন পেজ খুলে যাবে।
নতুন পেজে উপরের বাঁ দিকেই আবার ‘Search Your Name in Voter List’ নামে একটি অপশন দেখা যাবে। সেটিতে ক্লিক করতে হবে। এরপর Search by ‘Voter ID / EPIC’ অপশনটি বেছে নিতে হবে।
অফলাইনে রাজ্যের সব বিএলও-র (BLO) কাছে খসড়া তালিকার হার্ড কপি থাকবে। নিজের বুথের বিএলও-র কাছে গিয়ে ভোটারেরা যাচাই করতে পারবেন তালিকায় নাম রয়েছে কি না। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটারদের সুবিধার জন্য খসড়া তালিকা প্রকাশের দিন বিএলও-দের যতটা সম্ভব বুথে উপস্থিত থাকতে বলা হবে।
এ ছাড়া রাজ্যের স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের হাতেও খসড়া তালিকার সফ্ট কপি দেবে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। জেলা স্তর থেকে রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টদের (বিএলএ) হাতেও দেওয়া হবে হার্ড কপি। তাঁদের কাছ থেকেও ভোটারেরা তথ্য জানতে পারবেন।
এই অপশনটি নির্বাচন করার পর নীচে একটি ফাঁকা ঘর আসবে, যেখানে নিজের ভোটার আইডি (Voter ID) বা এপিক নম্বর (EPIC number) লিখতে হবে। নম্বর দেওয়ার পর সার্চ বাটনে ক্লিক করলেই সঙ্গে সঙ্গে জানা যাবে খসড়া ভোটার তালিকায় আপনার নাম রয়েছে কি না। যে যে কারণে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাবে বলেই জানিয়েছিল কমিশন। সেগুলি হল- মৃত, স্থানান্তরিত, নিখোঁজ, ডুপ্লিকেট এবং অন্যান্য।
কমিশন (ECI) জানিয়েছে, ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সেই সব অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজন হলে শুনানিতে ডাকা হবে ভোটারদের। সব প্রক্রিয়া শেষে ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে (2002 Voter List) নাম নেই বা সেই ভোটার তালিকায় বাবা, মা, দাদু, দিদা বা পরিবারের কারও নাম নেই, এমন ২৪ লক্ষ ২১ হাজার ১৩৩ জনকে শুনানিতে ডাকা হতে পারে। যাদের বয়স ৪৫ বছরের বেশি এমন ২০ লক্ষ ৭৪ হাজার ২৫৬ জনকেও নোটিস দিয়ে ডাকা হবে।
৪৫ বছর কেন? কারণ, যাঁদের বয়স এখন ৪৫ তাঁদের ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় (Voter List) নাম থাকার কথা। ২৩ বছর আগে শেষ বার এসআইআর হয়েছে রাজ্যে। কারও বয়স এখন ৪৫ হলে ২০০২ সালে তাঁর বয়স ছিল ২২ বছর। ১৮ বছর বয়সে ভোটার তালিকায় নাম ওঠার কথা। কিন্তু ৪৫ বছর বয়স হলেও যাঁদের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল না বা ২০০৬ সালে বিধানসভা ভোটের (2026 Bengal Assembly Election) সময়ও যাঁদের নাম ভোটার লিস্টে ওঠেনি, তাঁদের নিয়ে কমিশনের সন্দেহ রয়েছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার ২৩০ জন ভোটারের ক্ষেত্রে বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক মাত্র ১৫ বছর। একইভাবে বাবার সঙ্গে বয়সের ফারাক ৫০ বছর এমন ভোটারের সংখ্যা ৮ লক্ষ ৭৭ হাজার ৭৩৬।
খসড়া তালিকা (SIR Draft List) প্রকাশের পরই হিয়ারিংয়ের জন্য ডাকা হবে। তবে কমিশন সূত্রে বলা হচ্ছে, হেয়ারিংয়ে ডাকা মানেই নাম বাদ পড়বে এমন কোনও বিষয় নেই। যাদের ডাকা হচ্ছে তাদের অনেকের ক্ষেত্রেই টেকনিক্যাল সমস্যার জন্য তথ্যগত ভুল থাকতে পারে। তবে যাদের নথি সংক্রান্ত সমস্যা থাকবে অর্থাৎ প্রয়োজনীয় নথি দাখিল করতে পারবেন না তাদের নাম বাদ যাবে।
অন্যদিকে, খসড়া তালিকায় (Draft List) নাম থাকলেই যে চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকবে, এমনটা নয়। Logical Discrepancies রয়েছে (যে সাতটি অসঙ্গতি ধরা পড়েছিল) এমন ভোটারদের প্রায় সকলকেই শুনানিতে ডাকা হবে। তাছাড়া আনম্যাপড (প্রায় ৩০ লক্ষ) যারা, তাদের সকলকেই শুনানিতে ডাকা হবে। তবে খসড়া তালিকায় নাম না থাকলেই যে সব গেল গেল এমনটাও নয়। যদি সব নথি সঠিক থাকা সত্ত্বেও খসড়া তালিকায় নাম না ওঠে, তাহলে ৬ নম্বর ফর্ম (name inclusion) ফিলআপ করে জমা দিতে হবে (SIR News)।
গত ২৭ অক্টোবর রাজ্যে এসআইআরের (SIR) দিন ক্ষণ ঘোষণা করেছিল কমিশন। সে দিন পর্যন্ত রাজ্যে মোট ভোটার ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। কমিশন জানিয়েছে, মোট ভোটারের নামে এনুমারেশন ফর্ম ছাপানো হয়েছিল। তাঁদের প্রত্যেকের কাছেই ফর্ম নিয়ে গিয়েছিলেন বুথ স্তরের অফিসার(বিএলও)-রা।
রবিবার পর্যন্ত মোট ভোটার থেকে নাম বাদ পড়েছে ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮ জনের। বাকিদের নাম খসড়া তালিকায় ওঠার কথা। কমিশন জানিয়েছে, এনুমারেশন ফর্মে কেবলমাত্র সই করে জমা দিলেও খসড়া তালিকায় নাম উঠবে। সেই অনুযায়ী প্রায় ৭ কোটি ৮ লক্ষ ভোটারের নাম খসড়ায় থাকার কথা। চূড়ান্ত তালিকায় নাম ওঠার আগে তাঁদের তথ্য যাচাই করবে কমিশন।