মা বাবা অনুপস্থিত থাকায় হাসপাতাল থেকে শিশুকে আনতে গিয়েছিলেন তার জ্যাঠা বটকৃষ্ণ জেনা। ভর্তির সময় যিনি সই করেছিলেন তিনি না আসায় শিশুটির লিগাল গার্জিয়ান কে তা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

মা বাবার কোলে ছোট্ট ইশা
শেষ আপডেট: 18 June 2025 15:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: অভিভাবক কে, তা নিয়ে বিভ্রান্তির জেরে হাসপাতাল থেকে একরত্তি শিশুর ঠাঁই হয়েছিল হোমে। ৪২ দিনের টানাপড়েন শেষে বাবা-মায়ের কাছে ফিরল শিশু।
গত ৫ মে হঠাৎ অসুস্থ হওয়ায় আড়াই বছরের শিশু ঈশা জেনাকে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন তার পিতামাতা। চক বাঁশবেড়িয়া মন্দিরতলার বাসিন্দা অশোক ও অনুপমা জেনার ছোটো মেয়ে ঈশা। অশোক বাঁশবেড়িয়া গ্যাঞ্জেস জুট মিলের শ্রমিক। মেয়েকে ভর্তি করার পরেই মা অসুস্থ খবর পেয়ে অনুপমা ওড়িশা চলে যান। এদিকে দুদিন চিকিৎসার পর সুস্থ হলে ঈশাকে ছুটি দিয়ে দেয় হাসপাতাল।
মা বাবা অনুপস্থিত থাকায় হাসপাতাল থেকে শিশুকে আনতে গিয়েছিলেন তার জ্যাঠা বটকৃষ্ণ জেনা। ভর্তির সময় যিনি সই করেছিলেন তিনি না আসায় শিশুটির লিগাল গার্জিয়ান কে তা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। হাসপাতাল চাইল্ড লাইনকে জানায় বিষয়টি। চাইল্ড লাইন দ্রুত পদক্ষেপ করে। শিশুটিকে নিয়ে গিয়ে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিকে দেয়।কমিটি তাকে নবগ্রাম হোমে রাখে।
এরপর কেটে গেছে ৪২ দিন। শিশুটির বাবা-মা ওড়িশা থেকে ফিরে এসে মেয়েকে ফিরে পাবার জন্য আবেদন নিবেদন করতে থাকেন। কোনও ভাবেই কিছু হয় না। পরে জুটমিলের এক শ্রমিক নেতার মাধ্যমে যোগাযোগ হয় বাঁশবেড়িয়া পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দুর্গা রাও এর সঙ্গে। কাউন্সিলর বাঁশবেড়িয়ার ভাইস চেয়ারম্যান শিল্পী চট্টোপাধ্যায়কে বিষয়টি জানান। শিল্পী হুগলি জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ আইনজীবী নির্মাল্য চক্রবর্তীর সঙ্গে কথা বলেন
আইনজীবী নির্মাল্য শিশুটিকে তাঁর অভিভাবকের কাছে ফিরিয়ে দিতে CWC র চেয়ারপার্সন মনিদীপা ঘোষের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু জটিলতা তৈরি হয়, শিশুটি তার মা বাবাকে চিনতে পারছে না বলায়। এরপরেই CWC জানিয়ে দেয় শিশুটিকে অভিভাবকহীন ঘোষণা করা হবে। নির্মাল্য চক্রবর্তী,হুগলি জেলা শাসক মুক্তা আর্যর সঙ্গে কথা বলেন।এরপর অতিরিক্ত জেলা শাসক(উন্নয়ন) অমিতেন্দু পাল, ডিএসডব্লিউ র সঙ্গে আলোচনা করেন। অবশেষে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে শিশুটিকে ফিরে পান তার মা বাবা।
স্বভাবতই খুশি শিশুর পরিবার। সামান্য ভুল বোঝাবুঝির জন্য একরত্তি শিশুকে তার বাবা-মা পরিবার ছেড়ে হোমে থাকতে হল এতগুলো দিন। নির্মাল্য চক্রবর্তী বলেন, "শিশুটি তার জেঠু জেঠিমার ঘরেই বেশিরভাগ সময় থাকে। তাদের মা বাবা বলেও ডাকে। হাসপাতালে ভর্তির পর তাকে যখন ছুটি দেওয়া হয় সেই জেঠুই তাকে আনতে গিয়েছিল আর তা থেকে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। শিশুটি প্রকৃত মা-বাবা যে রয়েছে সেটা বোঝাতে অনেকটা সময় চলে যায়। তবে সবার চেষ্টায় শিশুটি তার মা বাবার কাছে ফিরে এসেছে এটাই ভালো কথা।"