১৯৩১ সালের জনগণনা পর্যন্ত কুড়মি সমাজকে ‘প্রিমিটিভ ট্রাইব’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও স্বাধীনতার পরে সেই স্বীকৃতি হারিয়ে যায়। পুনরায় জনজাতি মর্যাদা ফেরানোর দাবি জানিয়ে বারবার রাজ্য ও কেন্দ্রের কাছে আবেদন করা হলেও, ২০১৭ সাল থেকে রাজ্য গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ কুড়মিদের।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 20 September 2025 10:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, নিজের অধিকার আদায়ের দাবিতে শনিবার থেকে রেল অবরোধের (Rail Blockade) পথে হেঁটেছে কুড়মি সমাজ (Kurmi Society)। তবে তাঁদের ‘রেল টেকা’ ও ‘ডহর ছেঁকা’ কর্মসূচির প্রভাব এখনও তেমন চোখে পড়ছে না। কুস্তাউর, ঝালদা, কোটশিলা, পুরুলিয়ার স্টেশনে ট্রেন স্বাভাবিকভাবে চলছে। সড়ক পরিবহণও নিরবিচ্ছিন্ন।
তবে বিভিন্ন স্টেশনে পুলিশ ও আরপিএফ মোতায়েন রয়েছে। রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, কিছু ট্রেন বাতিল বা ঘুরপথে চালানো হচ্ছে।
অধিকার আদায়ে আন্দোলনকারী কুড়মি সমাজের নেতা অজিতপ্রসাদ মাহাতোকে শুক্রবার গভীর রাতে কোটশিলা এলাকা থেকে পুলিশ আটক করেছে বলে দাবি করেছেন তাঁর ছেলে বিশ্বজিৎ মাহাতো। তিনি জানিয়েছেন, “আমার বাবা-সহ ১৪-১৫ জন কর্মীকে আটক করা হয়েছে।” যদিও পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৩১ সালের জনগণনা পর্যন্ত কুড়মি সমাজকে ‘প্রিমিটিভ ট্রাইব’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও স্বাধীনতার পরে সেই স্বীকৃতি হারিয়ে যায়। পুনরায় জনজাতি মর্যাদা ফেরানোর দাবি জানিয়ে বারবার রাজ্য ও কেন্দ্রের কাছে আবেদন করা হলেও, ২০১৭ সাল থেকে রাজ্য গড়িমসি করছে বলে অভিযোগ কুড়মিদের।
পুজোর মরশুমে দাবি আদায়ের চাপ বাড়াতে কুড়মি সমাজ রেল অবরোধের ডাক দিয়েছে। ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংগঠনগুলোর আবেদনের পর আদালত এই আন্দোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তারা সুপ্রিম কোর্টে যাবেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনও তীব্রতর করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
অন্যদিকে শুক্রবারই এডিজি আইনশৃঙ্খলা জাভেদ শামিম বলেন, “কোর্টের অর্ডার ও পুজোকে মাথায় রেখে কুড়মি সমাজকে আমরা অনুরোধ করব। সাধারণ মানুষ বা রেলের কোনো সমস্যা হলে আমরা অ্যাকশন নিতে প্রস্তুত।” ইতিমধ্যেই জঙ্গলমহলে স্পেশাল ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। তবে বনধকে ঘিরে ক্রমেই উত্তেজনা বাড়ছে জঙ্গলমহলে। তবে পুলিশের দাবি, পরিস্থিতির ওপরে নজর রাখা হচ্ছে, প্রয়োজনে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।