তাঁর দাবি, “ইডি লুটেরাদের ধরতে গিয়েছিল। আর ইডির উপস্থিতিতেই মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে আর একটা লুট হয়ে গেল। আসলে ইডি মানে ইডিয়েট। ওরা কিছুই করতে পারল না।”
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অধীর চৌধুরী।
শেষ আপডেট: 8 January 2026 19:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সকালে আইপ্যাকের অফিস ও সংস্থার (ED's raid on I PAC) কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানা দেওয়ার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে বিতর্ক। অভিযানের খবর পেয়ে দ্রুত প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাতে সবুজ রঙের একটি ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। সেই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসতেই একের পর এক প্রশ্ন তুলেছেন প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury)।
অধীরের প্রশ্ন, ইডির অভিযানের মাঝখানে মুখ্যমন্ত্রী কেন ওই ফাইল নিয়ে বেরিয়ে এলেন? ফাইলে কী ছিল? তাঁর কটাক্ষ, "আইপ্যাক চাইলে আইনি সহায়তা নিতে পারত। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর ‘ইন্টারেস্ট’ কী? রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হয়ে থাকলে আইনি পথে লড়াই না করে তিনি কেন নিজে এগিয়ে এসে ‘বেআইনি কাজ’ করবেন?"
প্রশ্ন তুলেছেন, “এত ভয় কেন মুখ্যমন্ত্রীর?” সঙ্গে যোগ করেছেন, “ডাল মে কুছ কালা হ্যায়, না কি সবটাই কালা, সেটাই দেখতে হবে।”
প্রসঙ্গত, সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ওই ফাইলে তৃণমূলের গোপন নির্বাচনী নথি রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, দলের হার্ড ডিস্ক, প্রার্থীতালিকা, কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল ইডি। এই মন্তব্যের পাল্টা অধীর বলেন, “ইডি লুটেরাদের ধরতে গিয়েছিল। আর ইডির উপস্থিতিতেই মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে আর একটা লুট হয়ে গেল। আসলে ইডি মানে ইডিয়েট। ওরা কিছুই করতে পারল না!”
তবে অধীর স্পষ্ট করে দেন, তিনি ইডির অভিযানকে সমর্থন করছেন না। তাঁর কথায়, “ইডি আগে বাংলায় ও দেশের নানা জায়গায় অভিযান চালিয়েছে। আমাদের নেত্রী সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধীকেও মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমি সব সময়ই ইডিকে ‘ইডিয়েট’ বলি।” কিন্তু তাঁর দাবি, এত অভিযানের মধ্যেও আগে কখনও মুখ্যমন্ত্রীকে এ ভাবে তৎপর হতে দেখা যায়নি।
এখানেই তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য, “আইপ্যাকেই ওঁর প্রাণ লুকিয়ে আছে। তৃণমূলের বাঁচা-মরা আইপ্যাকের উপর নির্ভর করছে বলেই তাঁকে দৌড়ে যেতে হয়েছে।” একই সঙ্গে তৃণমূলকে ‘কর্পোরেটাইজড দল’ বলে আক্রমণ করেন অধীর। তাঁর বক্তব্য, "একটা রাজনৈতিক দল কতটা দেউলিয়া হলে দলের প্রার্থী, নীতি, পরিকল্পনা সবই পার্টি অফিসে না থেকে একটি বাণিজ্যিক সংস্থার হাতে থাকে!"