সম্প্রতি আক্রান্ত হয়েছিলেন কমিশনের রোল অবজারভার সি মুরুগান। ঘটনার পরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলে কমিশন।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 5 January 2026 19:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা। নিরাপত্তা বলয় আরও শক্ত করতে অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী (Central Force) মোতায়েনের জন্য দেশের নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) কাছে আর্জি জানালেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল। তবে ঠিক কত অতিরিক্ত বাহিনী (Additional Force) চাওয়া হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ইঙ্গিত, পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যাই চাওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি আক্রান্ত হয়েছিলেন কমিশনের রোল অবজারভার (Roll Observer) সি মুরুগান। ঘটনার পরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলে কমিশন। রাজ্যের ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশকে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়—৬ জানুয়ারি বিকেল পাঁচটার মধ্যে সেই রিপোর্ট জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
এর পরই প্রতি রাজ্যের সিইওদের নিয়ে দিল্লিতে এদিন বৈঠকে বসে কমিশন। আলোচনার টেবিলে উঠে আসে রোল অবজারভার থেকে শুরু করে বিএলও—সবার নিরাপত্তা ঘিরে উদ্বেগ। অভিযোগ, আগাম জানানো সত্ত্বেও বহু ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি পর্যবেক্ষকদের। বিশেষ করে স্পর্শকাতর এলাকায় পরিদর্শনের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেন ঢিলে ছিল। এরই প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের রোল অবজার্ভার এবং বিএলওদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে কমিশনের কাছে আর্জি জানান রাজ্যের সিইও।
কমিশনের রিপোর্টে উঠে এসেছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক এলাকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন সংক্রান্ত শুনানির সময়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেআইনি জমায়েত, কোথাও আবার অবজারভারের গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত—সব মিলিয়ে পরিস্থিতিকে কমিশন চিহ্নিত করেছে “গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি” হিসেবে। এরপরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়াকড়ি নিয়ে বাড়তি পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে খবর।
কমিশনের তরফে ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে, স্পর্শকাতর এলাকায় রোল অবজারভারের পরিদর্শন মানেই বাধ্যতামূলকভাবে পর্যাপ্ত পুলিশি ব্যবস্থা রাখতে হবে, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন একজন সিনিয়র পুলিশ অফিসার, কোনও পরিস্থিতিতেই হালকা নিরাপত্তা রাখা যাবে না।
কমিশনের মতে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সুরক্ষা ও স্বচ্ছতা রক্ষায় এই কড়া অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রশাসনিক মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চর্চা—এই পদক্ষেপ কি রাজ্যের ভোট-নিরাপত্তার মানচিত্রে নতুন বার্তা বহন করছে?