এই ঘটনায় যাত্রীদের ক্ষোভ তুঙ্গে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি ভিতরে সিসিটিভি থাকে, গার্ড বা চালক কেন বুঝলেন না যে দরজা খুলছে না?”

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 29 October 2025 23:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অফিস টাইমে ভিড়ভাট্টা ট্রেনে এমন অভিজ্ঞতা যে কারও ঘুম উড়িয়ে দেবে। বুধবার সন্ধেয় চোখ কপালে উঠল বনগাঁ শাখার গোবরডাঙা স্টেশনের যাত্রীদের। শিয়ালদহ-বনগাঁ-রানাঘাট এসি লোকাল ট্রেন প্ল্যাটফর্মে ঢুকেও না থেমে, দরজা না খুলেই তিনশো মিটার এগিয়ে যায়, যাত্রীদের মধ্যে কার্যত হুলস্থুল শুরু হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সন্ধে ৭টা ৩৬ মিনিট নাগাদ। অফিস ফেরা যাত্রীতে গিজগিজ করছে এসি লোকাল। গোবরডাঙা স্টেশনে ঢোকার পরই সবাই নেমে পড়বেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু দেখা গেল, দরজা খুলছেই না! কেউ ভাবছেন, হয়তো টেকনিক্যাল সমস্যা। কেউ আবার দরজার সেন্সর চেক করছেন। হঠাৎ করেই ট্রেন ছুটে চলল প্ল্যাটফর্ম ছেড়ে।
যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে চেঁচিয়ে ওঠেন। এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আমরা সবাই নামার জন্য গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম, দেখি দরজা খুলছে না। তারপর দেখি ট্রেন তো ছাড়লই! ভিতরে দু’জন রোগীও ছিলেন। আমরা ভয় পেয়ে যাই। আবার ট্রেনের স্পিকারের মাধ্যমে গার্ডকে জানাই, গোবরডাঙা স্টেশনে দরজা খোলেনি। বারবার বলার পরও কেউ সাড়া দিচ্ছিল না।'
চোখের নিমেষে তিনশো মিটার এগিয়ে যায় ট্রেন। এরপর ট্রেনের ভিতরে থাকা ঘোষণায় শোনা যায়, ট্রেন ব্যাক করে ফিরবে প্ল্যাটফর্মে। প্রায় কুড়ি মিনিট পর অবশেষে ট্রেনটি ব্যাক করে গোবরডাঙা স্টেশনে ফিরে আসে। দরজা খোলা হয়, নামেন যাত্রীরা। তারপর কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ট্রেন ফের বনগাঁ হয়ে রানাঘাটের দিকে রওনা দেয়।
এই ঘটনায় যাত্রীদের ক্ষোভ তুঙ্গে। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি ভিতরে সিসিটিভি থাকে, গার্ড বা চালক কেন বুঝলেন না যে দরজা খুলছে না?” যাত্রীদের দাবি, ঘটনার সময় ট্রেনের ভিতরে কোনও আরপিএফ বা চেকার উপস্থিত ছিলেন না।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে যাত্রীদের একাংশের মতে, এই ধরনের ভুল আবার হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।