দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতে প্রবীণ নাগরিকদের বেশিরভাগই কোনও না কোনও ক্রনিক অসুখে ভুগছেন। সমীক্ষায় এমনটাই দাবি করল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ষাটোর্ধ্ব প্রবীণদের প্রতি দুজনের মধ্যে একজন কোমর্বিডিটির শিকার।
সমীক্ষা বলছে, বয়স্কদের প্রায় ৪০ শতাংশ কোনও না কোনওভাবে শারীরিক বা মানসিক পঙ্গুত্বের শিকার। ২০ শতাংশ মানসিক রোগে ভুগছেন। ২৭ শতাংশের মাল্টি-মর্বিডিটি অর্থাৎ নানারকম শারীরিক সমস্যা রয়েছে।
হার্টের রোগ, ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন, ক্রনিক কিডনি ও লিভারের রোগ, জটিল ফুসফুসের রোগ বা সিওপিডি ইত্যাদি অসুখে ভোগা রোগীর সংখ্যাও বেশি। ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন সায়েন্স (আইআইপিএস)-এর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবীণ নাগরিকদের সাড়ে চার কোটি কার্ডিওভাস্কুলার রোগে ভুগছেন, ২ কোটির বেশি ডায়াবেটিসের শিকার। অন্তত ২৪ শতাংশের হাঁটাচলা করা, সিঁড়ি ভাঙার সমস্যা আছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ক্রনিক রোগের কারণে ভাইরাসের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে শরীরে। ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ বা ক্রনিক ফুসফুসের রোগ যাদের আছে তারা খুব তাড়াতাড়ি সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটারি সিন্ড্রোমে আক্রান্ত হতে পারে। দেখা গেছে, ইনটেনসিভ কেয়ারে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে থাকা বা কৃত্রিম অক্সিজেন সাপোর্টে থাকা বেশিরভাগ করোনা রোগীই কোমর্বিডিটির শিকার।
কেন্দ্রের তথ্য বলছে, কোভিড পজিটিভ রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করে জানা গিয়েছে, অন্তত ৫.৭৪ শতাংশ রোগী হাইপারটেনশনে আক্রান্ত, ৫.২০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে ডায়াবেটিস। তাছাড়া, বয়স জনিত অসুস্থতা, লিভারের রোগ, ক্রনিক কিডনির রোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি), ম্যালিগন্যান্সি, ব্রঙ্কাইটিস, নিউরোমাস্কুলার রোগ, কম প্রতিরোধ ক্ষমতা ইত্যাদি রোগেও কাবু দেশের বেশিরভাগ ভাইরাস আক্রান্তই।
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, করোনায় মৃত রোগীদের ১৩.৯ শতাংশই কোমর্বিডিটির শিকার। আর এই গ্রুপে রয়েছেন ৪৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী রোগীরা। ষাটোর্ধ্ব ২৪.৬ শতাংশ কোভিড রোগীর মৃত্যুর কারণও কোমর্বিডিটি। এই রোগীদের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ ছাড়াও কার্ডিয়াক রোগ, রেনাল ফেলিওর, ক্যানসার রোগী ও অঙ্গ প্রতিস্থাপন হয়েছে এমন রোগীরা রয়েছেন।